প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান পতনে তীব্র তারল্য সংকট

রুবাইয়াত রিক্তা: পুরো মাসজুড়ে পতনে থাকা বাজারে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে হঠাৎ করে সূচকের অস্বাভাবিক পতন হয়। দুদিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ১৬৪ পয়েন্ট। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ কার্যদিবসে সূচকের পতন হয়েছে ৪১৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে গতকাল হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক উত্থান হয়ে সূচক বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট। দুর্বল-সবল বাছবিচার না করেই বেড়েছে ৯৩ শতাংশ কোম্পানির দর। কমেছে মাত্র ১৫টির দর। তবে সূচকের এতটা উত্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি লেনদেন। বরং আগেরদিন ৪৬৪ কোটি টাকা লেনদেন হলেও গতকাল তা ৩১৭ কোটিতে নামে; যা সূচকের উত্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চলতি বছরের অধিকাংশ সময়ে লেনদেন ৩০০-৪০০ কোটির ঘরে হয়েছে। ব্যাংক খাতের আর্থিক সংকটের প্রভাবে পুঁজিবাজারেও চলছে তীব্র তারল্য সংকট। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে টাকা না থাকা আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থা সংকটে বাজার থেকে দূরে থাকায় তারল্য সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
গতকাল মাত্র ১৫টি কোম্পানির দরপতন হয়। এর মধ্যে বিমা খাতে সাতটি, ব্যাংক খাতে দুটি, প্রকৌশল, আর্থিক, জ্বালানি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে একটি করে কোম্পানি দরপতনে ছিল। বাকি খাতগুলো শতভাগ ইতিবাচক ছিল। আগেরদিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ড, ওষুধ ও রসায়ন এবং বিবিধ খাতে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে চার শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। বাকিগুলোয় এক শতাংশ করে বেড়েছে। এক শতাংশ কমে বিমা খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ। এ খাতের প্রগ্রেসিভ লাইফ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, সোনারবাংলা ইন্সুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, পপুলার লাইফ, ইউনাইটেড ও সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স দরপতনে ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের চার প্রতিষ্ঠান দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। স্কয়ার ফার্মার সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা। বীকন ফার্মার প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৪০ পয়সা। সিলকো ফার্মার প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে চামড়াশিল্প খাতের ফরচুন সুজ। দর বেড়েছে দেড় টাকা। লিগ্যাসি ফুটওয়্যার দরবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। জ্বালানি খাতের ডরিন পাওয়ারের সাড়ে ছয় কোটি, ইউনাইটেড পাওয়ারের ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। বিবিধ খাতের সিনোবাংলার সোয়া ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে প্রায় পাঁচ টাকা। ব্র্যাক ব্যাংকের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বাড়ে ৮০ পয়সা। এছাড়া সী পাল রিসোর্টের সোয়া পাঁচ কোটি, মুন্নু সিরামিকের পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়। মুন্নু সিরামিকের দর বেড়েছে সাড়ে পাঁচ টাকা। প্রকৌশল খাতের আজিজ পাইপস, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, কে এন্ড কিউ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..