প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাজারে এখন আম্রপালি ও ফজলির রাজত্ব

প্রতিনিধি, রাজশাহী: সারাদেশে আমের রাজ্য হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চল। রাজশাহী জেলার বানেশ্বর বাজারে মৌসুমের শেষে রাজত্ব করছে সুস্বাদু, রসালো ও পাতলা আবরণের জনপ্রিয় আম্রপালি আম। বাজারে বিক্রি হচ্ছে নাক ফজলি, ফজলি, আশ্বিনা জাতের বড় আম। তবে বাজার থেকে উধাও সুমিষ্ট ল্যাংড়া জাতের আম। হটাৎ দু-একটা মিললেও দাম আকাশছোঁয়া।

গতকাল বুধবার উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট বানেশ্বরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ল্যাংড়া আম। আমদানি একেবারে শূন্যের কোঠায়। যে দু-একটা ভ্যানে আম বিক্রি করতে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা বাজারে প্রবেশের আগেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহীর এ হাট থেকে আম কিনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বাজারে বিক্রি করেন ব্যবসায়ী শাহিনুর ইসলাম। এ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ল্যাংড়া আম তেমন দেখা যাচ্ছে না। দাম চাওয়া হচ্ছে ৪ হাজার টাকা মণ। ১০০ টাকা কেজিতেও মিলছে না ল্যাংড়া।

অন্য আমের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি আম রয়েছে আম্রপালি আর ফজলি জাতের আম। আশ্বিনা আমও বেশ দেখা যাচ্ছে। আশ্বিনা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ। ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ভালো মানের ১২’শ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া কড়া মিষ্টি আম আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২২’শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দামে এসব আম ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। দাম চাইতে কেউ কম করছেন না। আম্রপালি আম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দাম চাচ্ছেন তারা। তবে মানভেদে নিজের লাভের ভাগ বাড়িয়ে সামঞ্জস্যতেই দাম দিচ্ছেন তারা।

বাজারে আম বিক্রি করতে এসেছেন ইরিয়ান রাসেন। তিনি বলেন, বাজারে বর্তমান আম্রপালি আম বেশি দেখা যাচ্ছে। আশ্বিনা আমও আছে। তবে আম্রপালি আমের বেশ কদর। ২৫’শ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। ফজলি আমে এবার পোকা দেখা যায়নি। বৃষ্টি বেশি হলে পোকা দেখা যায়। ১ হাজার টাকা মণ দরে ফজলি বিক্রি হচ্ছে।

আম ব্যবসায়ী বজলুর রশিদ বলেন, বাজারে অনেকেই বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে আমি অল্প লাভে ছেড়ে দিচ্ছি। এখান থেকে কিনে কিছু লাভে ঢাকার পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছি। হাতবদলে যা লাভ হয় সেটাই ভালো। ২০ টাকা কেজিতে কিনা আম ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এবার অন্যান্য আমের মতোই ফজলি আমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে, গতবারের তুলনায় এবার আমের ফলন কম। বৈরী আবহাওয়ায় আমের গুটি ঝরে পড়ার কারণে কম ধরেছে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আম আবাদ হয়েছে, ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছর ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে আম আবাদ হয়েছিল। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয়েছিল ১১ দশমিক ৯৬ টন। মোট উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪০ দশমিক ৫৩ টন আম, যার বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৭১ কোটি ৮১ লাখ ৬২ হাজার ১২০ টাকা।

বানেশ্বর আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইয়ের কানসাটের পরেই বানেশ্বর বাজার। প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয় এখানে। বাজারে এখন আম্রপালি, ফজলি আর আশ্বিনা আম আছে। অল্প আছে ল্যাংড়া। বাজারে আমের আমদানি বেশি। ক্রেতা সে তুলনায় কম।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, বাজারে সর্বপ্রথম গুটি জাতের আম আগে আসে। পর্যায়ক্রমে গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা আম বাজারে আসে। এরপর বাজারে আসে খিরসাপাত, হিমসাগর ও লখনা। সর্বশেষ আশ্বিনা আর ফজলি আম বাজারে আসে। এছাড়া দু-একটা আম আছে যেগুলো মৌসুমের শেষে বিক্রি হয়। বাজার থেকে ল্যাংড়া উধাও, আম্রপালি-ফজলির রাজত্ব।