প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাজারে ফিরতে শুরু করেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা

সাইফুজ্জামান সুমন: রোজায় প্রায় পুরো মাসই পুঁজিবাজারে লেনদেনে খরা গেছে। সূচকও ছিল নি¤œমুখী। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসেও একই ধারা অব্যাহত থাকে। তবে রোববার পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। ওই লেনদেন হয় ৩১ মার্চের পর সর্বোচ্চ। সূচকও ছিল ইতিবাচক। একই প্রবণতা দেখা গেছে তৃতীয় দিন তথা গতকাল। সোমবার লেনদেন বেড়ে গত প্রায় তিন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সূচকের অবস্থানও গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোজায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মোটামুটি হাত গুটিয়ে ছিলেন। তবে ঈদের পর তারা বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ার কারণেই লেনদেনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এছাড়া গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ছয় হাজার ৬৯৮ পয়েন্ট, যা গত ৪ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

বিএসইসির নির্দেশনা অনুসারে এতদিন ডিএস-৩০-এ অন্তর্ভুক্ত কোনো কোম্পানির পাঁচ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে পারত না রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি। তবে পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে এক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছে বিএসইসি। বর্তমানে বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুসারে ডিএসইর নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০-এ অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে পাঁচ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে আইসিবি। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় যাতে আরও বেশি ভ‚মিকা রাখতে পারে, সেজন্য আইসিবিকে ডিএস-৩০ সূচকের কোম্পানিগুলোর পাঁচ শতাংশের বেশি শেয়ারে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়। এতে মৌলভিত্তির ও বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারবে আইসিবি, যা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় ভ‚মিকা রাখবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ফলে আর বিনিয়োগকারীরাও বাজারে ঝুঁকতে শুরু করছে। গতকাল সূচকের ছয় দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বা পাঁচ দশমিক ৬২ পয়েন্ট একাই যোগ করেছে আইসিবি।

বর্তমানে ডিএস-৩০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বিবিএস কেব্লস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল), বিএসআরএম লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ফরচুন সুজ, গ্রামীণফোন, জিপিএইচ ইস্পাত, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, আইএফআইসি, ইসলামী ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ, রেনাটা লিমিটেড, রবি আজিয়াটা, সিঙ্গার বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সামিট পাওয়ার, তিতাস গ্যাস ও ইউপিজিডিসিএল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ঈদের ছুটির পর বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাজারে ফিরছেন, যে কারণে সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ডিএসইতে গতকাল টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি ৩১ লাখ টাকার, যা আগের দিন থেকে ২৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯৭২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৬৯৮ দশমিক ০৮ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ্ সূচক ৬ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ১৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০০৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৪৫৪ দশমিক ১৩ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৪৪৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে।

ডিএসইতে ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪২টির বা ৬৩ দশমিক ৬৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ৭৭টির বা ২০ দশমিক ২৬ শতাংশের এবং ৬১টির বা ১৬ দশমিক ০৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪৪ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৩৯ দশমিক ১৩ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ৩০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ৯২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির দর। সিএসইতে ৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।