বাজারে মিসর ও থাইল্যান্ডের আম, চাহিদার শীর্ষে কমলা

নজরুল ইসলাম: দেশে এখন আমের মৌসুম নয়, তবুও বাজারে মিলছে আম। দেশের বাইরে থেকে এসব আম জোগান দিচ্ছেন আমদানিকারকরা। মিসর ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হচ্ছে আম। এছাড়া এ সময়ের মৌসুমি ফল কমলার চাহিদা এখন শীর্ষে। রয়েছে মাল্টার চাহিদাও। তবে মাল্টার ওপর ভ্যাটের হার বেড়ে যাওয়ায় আমদানি মাল্টার দামও কিছুটা বেশি। ২৪ নভেম্বর রাজধানীর বাদামতলীর ফল বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আমদানি করা ফল বাদামতলী থেকে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। দেশের বেশিরভাগ আমদানিকারকদের ফলের আড়ত এখানে।

মিসরের আম প্রতি কেজির পাইকারি দর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। আর থাইল্যান্ডের আম প্রতি কেজি পাইকারি দর ৪০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে বলে শেয়ার বিজকে জানিয়েছেন আবদুল্যাহ ফ্রুটস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হেদায়েত উল্লাহ তুহিন।

তরুণ এ ফল আমদানিকারক শেয়ার বিজকে বলেন, নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ফল কিউই। ফলটি বাংলাদেশে আসে থাইল্যান্ড থেকে। এর প্রতি ১০ কেজির পাইকারি দর ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। ইউরোপের ফল পার্সিমনও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটি বাংলাদেশে আসে ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে। এর প্রতিকেজির পাইকারি দর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

এদিকে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে শীতকালীন ফল কমলা। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কমলা পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এছাড়া চীনের ছোট জাতের কমলাও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান হেদায়েত উল্লাহ তুহিন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় কমলা প্রতি ক্রেইট (১৫০ থেকে ১৭৫ পিস) ২ হাজার ৩০০ থেকে ২৭০০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা কমলা প্রতি ১০ কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা মাল্টা ১৫ কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়। এদিকে ডিসেম্বরে মিসরের মাল্টা আমদানি শুরু হবে। সেগুলো বাজারে জানুয়ারি থেকে পাওয়া যাবে।

বাজারে এখন চীনের আঙ্গুর ৭ কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভারতের আঙ্গুর আগামী সপ্তাহ থেকে আমদানি শুরু হবে।

বাজারে চাহিদা বেড়ে গেলে ও সরবরাহ কম থাকলে ফলের দাম বেড়ে যায় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এক্ষেত্রে শিপমেন্ট খরচ তেমন প্রভাব ফেলে না বলে তারা জানান।

ফল আমদানির জন্য আইপি (আমদানি অনুমোদন) পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। আইপি অনুমোদন ৩ কার্যদিবসের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও ১০ থেকে ১৫ দিন পর দেয়া হয়।

নোয়াখালী ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও ফল আমদানিকারক আবদুল মালেক সওদাগর শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এখন কমলা ও আপেল বেশি বিক্রি হচ্ছে। অন্য ফলও বিক্রি হচ্ছে। এখানে সব ধরনের ফলের চাহিদাই রয়েছে।’

তাশো এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএআইএ) সভাপতি সালিমুল হক ইশা বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার কমলা এখন বাজারে। এছাড়া চীনের কমলাও রয়েছে। ভারতের নাগপুরি ও ভুটানের কমলা পর্যায়ক্রমে আসবে। এছাড়া বাজারে চাহিদার দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে মাল্টা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে মাল্টা আসছে।’

বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ীরা জানান, বাদামতলীতে যে ফলই আসুক, সবই বিক্রি হয়ে যায়। কোনোটাই পড়ে থাকে না। তবে মৌসুম হিসেবে চাহিদা কমবেশি থাকে। এখন শীত মৌসুম হিসেবে কমলার চাহিদা শীর্ষে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৩০  জন  

সর্বশেষ..