সম্পাদকীয়

বাজার নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

বর্তমানে লকডাউনের আদলে বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়ছে। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোয় পটোল, বেগুন, শিম, ধুন্দল, বরবটি, ঢেঁড়স, লাউ, টমেটোসহ প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সবজির গাড়ি কম আসায় এই দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, অনেকে চাহিদার চেয়ে বেশি কিনেছেন।

কভিডকালে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন আবশ্যক। কিন্তু পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ বলছে, পরিবারের সদস্যদের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দু’মুঠো অন্নের সংস্থানের জন্য ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন তারা। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন যেমন জরুরি, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখাও কম জরুরি নয়।

কভিডকালে যখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা উচিত, একটি খবর আমাদের হতাশ করে। গতকাল একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন ৭৬ লাখ দরিদ্র মানুষ ৬ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছেন না। কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের দাম তাদের বাজারদরেই কিনতে হয়। এদের মতো ছিন্নমূল মানুষ কী করে স্বাস্থ্যবিধি মানবেন। তাদের টাকা হয়তো ‘মাইর যাবে না।’ বর্তমানে তো খেয়েপরে বাঁচতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার টাকা দেয়া জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। তবে সুবিধাভোগীরা যাতে সময়মতো পেতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীদের এক বড় অংশ ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন বলা হলেও স্বীকার করতেই হবে, কভিডকালে অনেকেই তালিকায় স্থান পাওয়ার ‘উপযোগী’ হয়ে গেছেন। সামনে আরোপিত হতে যাওয়া সর্বাত্মক হওয়ায়  নিত্যপণ্য সরবরাহ চেইনে বিঘœ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সে অবস্থায় দামও বাড়বে। সেটি হলে যতই কঠোর লকডাউন হোক না কেন, সাধারণ মানুষ তা মানবে না।

লকডাউন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যেও জরুরি কাজের জন্য সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ব্যবস্থায় কর্মীদের অফিসে আনা-নেয়া করতে হবে। একই শর্তে শিল্পকারখানা ও নির্মাণকাজ চালু রাখা যাবে।

এর আগে লকডাউনের বিরোধিতা করে এবং দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। তাদের একটি সাধারণ স্লোগান ছিল ক্ষুধায় মারা যাওয়ার চেয়ে কভিডে মারা যাওয়াই ভালো।

সবার জন্য টিকা দেয়া নিশ্চিত করা কঠোর স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করতে হবে। টিকা নেয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে সরকার সর্বাত্মক লকডাউন আরোপে বাধ্য হয়েছে। এটি মেনেই আমাদের প্রত্যাশা বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে জন্যও কঠোর ব্যবস্থা নিন। নিত্যপণ্যের সরবরাহে সব বাধা দূর করুন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..