মার্কেটওয়াচ

বাজার ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন দরকার

গত ৯ বছরে বাজারে কোনো পরিবর্তন না আসায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন করা দরকার। তা না হলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে না। আমরা বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী পেয়েছি, এ আত্মতুষ্টিতে ভুগলে বাজারের কোনো কাজে লাগবে না। যদি না প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ না করে। ডিএসই ও বিএসইসির কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। তাই যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে বসাতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হওয়া দরকার। খুজিস্তা নুর-ই-নাহারিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াদ মতিন এবং সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল বারী।

মো. রিয়াদ মতিন বলেন, সামান্য উত্থানের পর বড় ধরনের পতনের ধারাতেই রয়েছে বাজার। বাজার হঠাৎ করে বেড়ে আবার কমে যাচ্ছে। কেন বাজার এ রকম আচরণ করছে এটা বলা মুশকিল। আবার বিশ্বজুড়ে এখন করোনাভাইরাস আতঙ্ক। এ ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। এটার একটি প্রভাব বাজারে পড়ছে। তবে বিশেষ প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানি খাতে। যখন দেশের অর্থনীতির কোনো খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তখন এর একটি প্রভাব বাজারে পড়ে। আবার যখন বাজারের শেয়ারদর ও সূচক পড়তে থাকে তখন একে-ওপরকে দোষারোপ করা হয়। আসলে বাজারের প্রকৃত সমস্যা ভালোমানের কোম্পানির অভাব। ভালো কোম্পানি আনার ব্যাপারে  সঠিক পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না।

বিনিয়োগকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজার একটি স্পর্শকাতর জায়গা। বাজারে শেয়ারের দর উঠা-নামা করবেই। আর এখানে ভালো মন্দ সব ধরনের কোম্পানি থাকে। বিশ্বের সব পুঁজিবাজারে থাকে। তাই দেখে-শুনে বিনিয়োগ করতে হবে।

ফজলুল বারী বলেন, পুঁজিবাজারের ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারী এখন মহাবিপদে। বাজার অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারে নেই কোনো স্থিতিশীলতা। বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েই যাচ্ছে। একদিকে পুঁজিবাজার অস্থিরতা অন্যদিকে মানি মার্কেট বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছে। পুঁজিবাজার ও মানি মার্কেটকে বিপদে রেখে কখনও দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাজার এখনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল। তাদের দুর্বলতার কারণেই বাজারে আজ এ অবস্থা। যখন বিনিয়োগকারী একটু লাভের দিকে থাকে তখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে  হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়। বাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিচ্ছে না। বরং তারা কিছু ব্যক্তিকে কারসাজি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। সুতরাং এখন বাজারে যে অবস্থা বিরাজ করছে এটা পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। কারণ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর  হস্তক্ষেপের কারণে বাজারের সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক গতি দেখা যায়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে আবার সূচক ও লেনদেন কমে যাচ্ছে। আসলে বাজারে এখন লুকোচুরির খেলা চলছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৯ বছরে যেহেতু বাজারের কোনো পরিবর্তন আসছে না, তাই বাজার ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন করা দরকার, তা না হলে বাজারের স্থিতিশীলতা আসবে না। আমরা বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী পেয়েছি, এ আত্মতুষ্টিতে ভুগলে বাজারের কোনো কাজে আসবে না। যদি না প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ না করে। ডিএসই ও বিএসইসির কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। তাই যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে দেন। যারা বাজার সম্পর্কে ভালো বোঝেন।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..