দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বাজার মূলধন বাড়ল সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা

সূচকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উত্থান

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বড় পতনের পর পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। গতকাল এক কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচকের উত্থান হয়েছে ১৬৯ পয়েন্ট বা প্রায় চার শতাংশ, যা গত সাত বছরের মধ্যে সূচক বৃদ্ধির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উত্থান। গতকাল দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয়েছে চার হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে। এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সূচক বৃদ্ধির রেকর্ড হয়। এদিন সূচক বাড়ে ৩৩২ পয়েন্ট বা পাঁচ শতাংশ।

এদিকে সূচকের রেকর্ড উত্থানের দিনে বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি লেনদেনও ৯০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এর আগে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে ৯৩২ কোটি টাকা লেনদেন হয়। আর গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯১৬ কোটি টাকা।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স চালু হয় ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। চার হাজার ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে সূচকের যাত্রা শুরু হয়। এরপর গত সাত বছরের মধ্যে ১৯ জানুয়ারি ছাড়া সূচকের এত বড় উত্থান দেখা যায়নি। এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে সূচকটি সর্বোচ্চ ১৫৫ পয়েন্ট বাড়ে।

এদিকে সূচকের বড় উত্থানেও স্বস্তি ফেরেনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তাদের অভিমতÑহঠাৎ করে সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান বা পতন ভালো নয়। স্বাভাবিক বাজারের লক্ষণ হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল থাকা। তাদের মতে, স্থিতিশীল বাজারের লেনদেনে ঝুঁকি কম। পক্ষান্তরে অস্বাভাবিক বাজারে লেনদেন করলে ঝুঁকির আশঙ্কা বেশি।

নতুন বছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে লাগাতার পতন শুরু হয়। প্রথম ১০ কার্যদিবসের ছয় দিনই ডিএসইর প্রধান সূচক কমে এক শতাংশের বেশি। এ ১০ দিনে সূচকের পতন হয় ৪১৬ পয়েন্ট। এর জেরে আশঙ্কাজনক হারে কমে যায় ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার এবং ইউনিটের বাজার মূলধন। ১০ দিনে বাজার মূলধন কমে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফলে পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গত ১৬ জানুয়ারি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কয়েকটি নির্দেশনা দেন, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। এছাড়া গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইয়াসির আজমানের নিয়োগ ও তারল্য সংকট নিরসনে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

এসব খবরে ডিএসইএক্স সূচকটির ১৯ জানুয়ারি রেকর্ড উত্থান হয়। কিন্তু এটি স্থায়ী হয়নি। পরে আবারও পতন শুরু হয়। এর জের বাজারের তারল্য সংকট কাটাতে

সরকারি অর্থ ছাড় করার ঘোষণা আসে। ফলে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সূচক।

এদিকে গতকাল সূচকের রেকর্ড উত্থানের দিনে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধির ফলে বাজার মূলধন যোগ হয়েছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের কার্যদিবসে বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। গতকাল দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৫ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা।

এর আগে চলতি বছরের প্রথম ১০ কার্যদিবসে বাজার মূলধন কমে ২৬ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা।

এদিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ, সরকারি অর্থ ছাড় ও  মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর ক্রয়যোগ্য অবস্থায় চলে আসাসহ বিভিন্ন কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনেকদিন বাজার নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে বিনিয়োগকারীদের কাছে এটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাদের মতে, বাজারের যে পরিমাণ কোম্পানি ও শেয়ার রয়েছে সেই হিসাবে প্রতিদিন এক হাজার কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন হওয়া স্বাভাবিক। এই ক্ষেত্রে সূচক কতটা বাড়ল, তা দেখার বিষয় নয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্ত আসা ও সরকারি অর্থ বাজারে আসার খবরে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। সে কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভালোমানের প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কম। ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। এটাও সূচক বৃদ্ধি পাওয়ার এক বড় কারণ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..