মার্কেটওয়াচ

বাজার স্থিতিশীল করতে বড় মিউচুয়াল ফান্ড আনা যায়

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

আমাদের পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন গড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বিবেচনায় ও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দৈনিক গড় লেনদেন হওয়া উচিত বাজার মূলধনের এক শতাংশ বা তিন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে যে লেনদেন হচ্ছে, তাকে খুবই নিম্ন পর্যায়ের বলা চলে। কিন্তু অন্যান্য দিক থেকে মার্কেট সঠিক অবস্থানে আছে। বাজারের টার্নওভার কিছুদিন আগেও বেশ ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তা কমে যায়। এজন্য ব্যাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসির সমন্বয়হীনতাই দায়ী। তাছাড়া এসইসি বাজার ভালো করতে বড় ধরনের মিউচুয়াল ফান্ড আনতে পারে। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।  মোশতাক আহমেদ সাদেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে  আলোচক ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব ও এফসিএ ক্যাপিটালের সিইও মাহবুব এইচ মজুমদার, এফসিএ।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন তিন লাখ কোটি টাকা। সে দিক বিবেচনায় এবং বাজার স্বাভাবিক থাকলে  দৈনিক গড় লেনদেন হওয়া উচিত এর এক শতাংশ বা তিন হাজার কোটি টাকা। দেড় হাজার কোটি টাকা থাকলেও মোটামুটি স্বাভাবিক বলা যেত। কিন্তু বর্তমানে যে লেনদেন হচ্ছে, তাকে খুবই নিম্ন পর্যায়ের বলা চলে। কিন্তু অন্যান্য দিক থেকে মার্কেট সঠিক অবস্থানে আছে। বাজারের টার্নওভার কিছুদিন আগেও বেশ ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তা কমে যায়। এর জন্য আমি বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করব। তারা এক্সপোজার-সংক্রান্ত কারণে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করেছে শেয়ার বিক্রি করতে। এতে করে বাজারে পতন হয়। সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসির মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে। পদমর্যাদায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যে মর্যাদা পান, অনেক কষ্ট করে এসইসি এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েও এর চেয়ারম্যান সে মর্যাদা পান না। ফলে যে কোনো সমন্বয়ের মিটিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ তার ডেপুটি গভর্নরকে পাঠায়। এজন্য এসইসির চেয়ারম্যানও যান না। এক সংস্থার প্রধান আর এক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করবেন এটাই স্বাভাবিক। যা পৃথিবীর সব জায়গাতেই হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর একটি কোম্পানিকে প্রথমে নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক; তারপরই বিএসইসি। আর এ দুটি খাত পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া এসইসি একটি কাজ করতে পারে, তা হচ্ছে বাজারে বড় ধরনের মিউচুয়াল ফান্ড আনতে পারে। সেখানে তো আর বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। দুর্ভাগ্যবশত মিউচুয়াল ফান্ড আমাদের বাজারকে নষ্ট করেছে।

মাহাবুব এইচ মজুমদার বলেন, বিদেশিরা যখন কোনো দেশে ব্যবসা করতে যায়, তখন তারা দেখে ওই দেশের ডুয়িং বিজনেসের সূচকটি কোথায় আছে। বিশ্বব্যাপী ডুয়িং বিজনেস ক্যাটাগরির সূচক হচ্ছে ১৯০। আর ১৯০ হচ্ছে সর্বশেষ ক্যাটাগরি, যেটি সোমালিয়ায় আছে। আমরা আছি সোমালিয়ার একটু ওপরে ১৭৭ ক্যাটাগরিতে, যেখানে ভারতের অবস্থান ১০৫-এ। এমনকি পাকিস্তানও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। ভুটানও এগিয়ে আছে ডুয়িং বিজনেস ক্যাটাগরিতে। আমাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে একটি জমি রেজিস্ট্রেশন করতে লাগে ২০০ দিন। বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লাগে ৪৪০ দিন। এ যদি হয় ব্যবসার অবস্থা, তাহলে কে আসবে এদেশে ব্যবসা করতে। আর আমরা যারা দেশে ব্যবসা করছি, তাদের অন্য দেশের মানুষ সালাম দিচ্ছে ১৭৭ ক্যাটাগরিতে থেকেও আমরা কীভাবে ব্যবসা করছি এই ভেবে। ডুয়িং বিজনেসের ক্যাটাগরি যদি একটি আদর্শ জায়গায় যেতে না পারে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। অনেকেই বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জিডিপির তুলনায় মাত্র ছয় শতাংশ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসছে দেশে।

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..