প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার

বাজেটে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে: শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নবনির্বাচিত সভাপতি। গত মেয়াদে সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এ ব্যবসায়ী নেতা তৈরি পোশাকশিল্প ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতের সফল উদ্যোক্তা। আগামী অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রস্তাবিত বাজেট, নতুন ভ্যাট আইন ও ব্যবসার পরিবেশসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন শেয়ার বিজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিয়াজ মাহমুদ ও জাকারিয়া পলাশ

শেয়ার বিজ: ফেডারেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করলেন অর্থমন্ত্রী। এ বাজেট সম্পর্কে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার মূল্যায়ন কী?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: প্রস্তাবিত এ বাজেটে কাঠামোগত একটা দুর্বলতা আছে। যারা বাজেট প্রণয়ন করেছেন তাদের এক্ষেত্রে আরও সাবধানী হওয়া উচিত ছিল। উন্নয়নের জন্য কানেকটিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অবকাঠামোতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, এটা ভালো। কিন্তু ব্যবসায়ী সম্প্রদয়ের উদ্বেগের কারণ ছিল যেসব বিষয়, সেদিকে তেমন দৃষ্টি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে অন্যতম নতুন ভ্যাট আইন। এ আইন বাস্তবায়নের পর নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে; তা প্রাক্কলন না করেই আইনটি বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বা অন্য কোনো সংস্থার চাপ নাকি অন্য কোনো কারণে কেন এমনটি করা হলো; তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

বেশ কিছু দিন ধরে মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। এখন এই একটা বাজেটের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের অর্জিত সফলতা নষ্ট করতে দেওয়া ঠিক হবে না। একটা প্রভাব মূল্যায়ন সমীক্ষা হওয়া উচিত, যে নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি কী হবে।

এছাড়া বাজেটে অনেক অপ্রয়োজনীয় ও বিরক্তিকর বিষয় আনা হয়েছে। আবগারি শুল্ক আগে কম ছিল বলে কেউ খেয়ালই করেনি। এখন সবার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যহানিকর বা ক্ষতিকর পণ্য ও সেবা ছাড়া অন্য বিষয়ে আবগারি শুল্ক অন্যায্য। এ শুল্কটা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার হওয়া উচিত।

শেয়ার বিজ: তাহলে এ বাজেটের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনার পরামর্শ কী?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: এখন আমরা চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছ থেকে আরও সুচিন্তিত বিশ্লেষণ চাচ্ছি, যা আমরা সরকারকে দেব। যেটুকু আলোচনা হয়েছে তাতেই কিন্তু আমরা বাজেট নিয়ে শঙ্কিত। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা বিশ্বাস করছি, বাজেট পাসের আগে এসব ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেওয়া হবে।

শেয়ার বিজ: ভ্যাট আইন নিয়ে বাজেটের আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। আপনি তখন এফবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি হিসেবে এনবিআরের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে কাজ করছিলেন। অগ্রগতি কতটুকু?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: আমরা সেই সমঝোতা প্রক্রিয়ার আংশিক বাস্তবায়ন দেখছি। যেমন এখন ভ্যাটমুক্ত সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু সেটা আমরা প্রস্তাব করেছিলাম ২০১৪ সালে। ২০১৭ সালে এসে ২০১৪ প্রস্তাব গ্রহণ করায় ব্যবসায়ীদের লাভ হয়নি। ২০১৭ সালে বাজেটের আকার চার লাখ কোটি টাকা হয়েছে। তখন ছিল এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। সব বিষয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে, আমাদের ক্ষেত্রে এটা মিলিয়ে নেওয়া হয়নি। এটা ঠিক নয়। আমাদের অর্থনীতিবিদরা ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে ভ্যাটের সীমা আছে ১০ হাজার রুপি। অন্যদিকে কম্বোডিয়ায় ভ্যাটের হার ৬ শতাংশ। সেটাও তো আলোচনা হতে পারে। টার্নওভার ট্যাক্স ৩ শতাংশ ছিল। এখন সেটা ৪ শতাংশ করা হয়েছে। টার্নওভারের ঊর্ধ্বসীমা ৮০ লাখ টাকা ছিল, সেটা দেড় কোটি টাকা করা হয়েছে। আমরা বলেছি, এটা ৫ কোটি টাকা করতে।

শেয়ার বিজ: নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়নে এনবিআর মুখ্য কর্তৃপক্ষ। এনবিআরের সক্ষমতা সম্পর্কে আপনার বিশ্লেষণ কী?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: এনবিআরের জনবল ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। বাস্তবায়ন দক্ষতায় তাদের ঘাটতি রয়েছে। বাজেট সম্পর্কে ক্রেতা বা ব্যবসায়ী মহলের মনে যেন এমন ধারণা না জš§ায় যে, এটা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজনীতিকদের যেমন ভোটের জন্য জনগণের কাছে যেতে হয়। এনবিআরের কর্মকর্তাদের তো ভোটের জন্য যেতে হয় না। কিন্তু তাদের জনবান্ধব হতে হবে, সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমরা বারবার বলেছি, ভ্যাট বাড়াবেন না, নেট বাড়াতে হবে।

শেয়ার বিজ: ভ্যাট অনলাইন বাস্তবায়ন নিয়ে আপনার ভাবনা?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: আমরা বিস্তারিত জানতে চাই। এনবিআর যে ৬০০ কোটি টাকা খরচ করে আইএমএফের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করল, এটাতে তারা আসলে কী করেছে? মনা মিয়ার ভিডিও দেখাতে কত টাকা গেছে? সফটওয়্যার কিনতে কত গেছে, প্রশিক্ষণে কী খরচ হয়েছে, কতজনকে প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে এগুলো আমরা জানতে চাই।

শেয়ার বিজ: প্রস্তাবিত বাজেটে যে বার্ষিক কর্মসূচি (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আপনার পরামর্শ কী?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: এডিপি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। মেগা প্রকল্পগুলো এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রেখে যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার বিজ: তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে আপনার বিনিয়োগ আছে। আবাসন খাতের দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেটের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন…

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: নির্মাণশিল্পের অনেক কিছুরই মূল্য বেড়ে যাবে। ইটের ভ্যাট আগে ট্রাঙ্কেটেড (সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের ওপর) ছিল। এখন তো ইটের দাম বেড়ে যাবে। প্রতিটি ইটের দাম বেড়ে যাবে এক টাকা-দেড় টাকা করে। অন্যদিকে প্রতি টন রডের দাম বাড়বে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য স্ক্রু, বল্টু, সাটারিং, স্টিল, প্লেট সব কিছু মিলে যদি দাম বেড়ে যায়, তখন যে ফ্ল্যাটগুলো এখনো অবিক্রীত রয়েছে তাদেরও অবস্থা কী হবে? এটা আবাসন খাতের ধস নামানোর মতো। এ খাতে ধস নামলে তা গোটা অর্থনীতির ওপর প্রভাব সৃষ্টি করবে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের ধসের কারণেই কিন্তু বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি হয়েছিল।

আর নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। কারণ বাড়তি দামেই চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য সামগ্রী কিনতে হবে। যে কোম্পানি এখন সরকারের কাছ থেকে কন্ট্রাক্ট নিয়েছে তারা নেওয়ার সময় পাঁচ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার শর্ত ছিল। এখন ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিলে তাদের এ বাড়তি পয়সাটা কে দেবে? এসব বিষয়ে ভাবা দরকার।

শেয়ার বিজ: আপনি পোশাক খাতেরও নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। সামনে ঈদের আগে নিশ্চয়ই বেতন-বোনাস দিতে হবে। এ নিয়ে প্রতিবছরই অসন্তোষ সৃষ্টি হয় অনেক কারখানায়…

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: বেতন বোনাস দিতে আমার নিজেরও কষ্ট হবে। তবু দিতে হবে। কারণ ব্যবসায় আমরা যারা এসেছি, ঝুঁকি নিয়েই এসেছি। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়েন। এখানেই ভ্যাট কর্মকর্তা আর উদ্যোক্তার মধ্যে তফাৎ। এনবিআরের কর্মকর্তারা হিসাব-নিকাশ করে উৎসে কর আর অগ্রিম কর (এআইটি) নেওয়ার ধান্ধা করেন। তাদের টার্গেট দেওয়া থাকে, সেটা পূরণ করে চাকরি বাঁচান, বেতন পান। কিন্তু এতে অন্যের যে অসুুবিধা হয়, তা তারা দেখেন না। উদ্যোক্তা আর ভ্যাট কর্মকর্তার মানসিকতার পার্থক্য এটা। এজন্য বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব একই কর্তৃপক্ষের হাতে রাখা উচিত নয়। বাজেট প্রণয়ন করবে একজন, বাস্তবায়ন করবে আরেকজন এমন হলে ভালো।

শেয়ার বিজ: পুঁজিবাজার নিয়ে বাজেটে কিছু বলা হয়নি। আশ্বাস ছিল অনেক। এ ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখছেন?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: অনেক কিছুই আমরা শুনেছিলাম। আমরা শুনেছিলাম করপোরেট করের হার পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে আরও কমানো হবে। কিন্তু হয়নি। আমরা শুনেছিলাম যে ভ্যাট ১২ শতাংশ হবে, কিন্তু হলো ১৫ শতাংশ। এছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির বিকল্প তহবিল (অল্টারনেটিভ ফান্ড) পর্যায়ে কর অব্যাহতি দেওয়া হলেও অল্টারনেটিভ ফান্ড ম্যানেজার পর্যায়ে আয়কর বিদ্যমান রয়েছে। দুই পর্যায়েই কর অব্যাহতির অনুরোধ জানাচ্ছি।

শেয়ার বিজ: জুয়েলারি খাতের ব্যবসা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা একদিকে আতঙ্কে আছেন, অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানিসহ নানা অভিযোগ আছে। এ খাতের বিষয়ে আপনার অভিমত?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: আমি প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবকে জানিয়েছি, যাতে এ খাতের উদ্যোক্তাদের হয়রানি না করা হয়। আসলে বিষয়টি নিয়ে কিছুই স্পষ্ট নয়। সবাই এখন বক্তৃতা দিচ্ছেন। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও এখন প্রচারমুখী। আপনি কোথাও অভিযান পরিচালনার (রেইড) পর সেটা প্রচার করে কী বলতে চাচ্ছেন? এর মাধ্যমে আপনি কি আগে থেকেই অবৈধ সোনা সরিয়ে ফেলার বার্তা দিয়ে দিতে চান নাকি ভীতি সৃষ্টি করছেন? এটা একটা কাউন্টার প্রডাক্টিভ অ্যাপ্রোচ।

আমরা জানতে চাই, আসলে কী হচ্ছে। সত্যি সত্যিই কি সোনা ধরা পড়ে? তাহলে সেগুলো পরে কী হয়? প্রথম শুনি সোনা ধরা পড়েছে। পরে শোনা যায় এটা সোনা না।

শেয়ার বিজ: কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২২ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে নিট খাতের নতুন বাজার ধরার চেষ্টা ছিল। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে কি?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: কাতারকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক একটা কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নিট খাতের নতুন বাজার সৃষ্টিতে সম্ভাবনার জায়গায় কাতারে একটা ছন্দপতন আছে। তবে নতুন বাজার আমাদের বাড়ছে। ইউরোপের বাইরে এখন ১৫ শতাংশ রফতানির নতুন বাজার আছে আমাদের। সুতরাং কাতারের সম্ভাবনা না পেলেও নতুন বাজার আমাদের অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি, এ মুহূর্তে উৎসে কর বাতিল করা দরকার। যেহেতু উৎপাদন খরচ কমানো যাচ্ছে না, সুদের হার কমানো যাচ্ছে না, মুদ্রার অবমূল্যায়নও করা হচ্ছে না, সেহেতু রফতানি খাতকে এ মুহূর্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তা ইনসেনটিভ হতে পারে, কর কমিয়ে হতে পারে।

শেয়ার বিজ: সম্প্রতি গ্যাসের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে? শিল্পোদ্যক্তা হিসেবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? 

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

শেয়ার বিজ: ফেডারেশনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার নিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের আগে দাবি তুলছিলেন। আপনি দায়িত্ব নিলেন। এ বিষয়ে আপনার ভাবনা…

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: কী ধরনের সংস্কারের কথা বলছেন, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। অন্যান্য সমিতি বা চেম্বারগুলোতেও তো পরিচালক বা সভাপতি নির্বাচিত হয় এভাবে। সংসদেও তো নির্বাচন হয় পরোক্ষভাবে। সুতরাং যারা সরাসরি নির্বাচন দাবি করছেন, তাদের সমিতিতে সরাসরি নির্বাচন হয় কি না, এজিএম অডিট হয় কি না এসব বিষয় আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। তারপরও সংস্কার ও পুনর্গঠন হচ্ছে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যেমন, পরিচালনা পর্ষদে সব খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য এখানে নমিমেশনের কিছু প্রথা রাখা ছিল। কেউ কেউ সেটার অপব্যবহার করেছেন। সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান সাহেবের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আমরা ছোট-বড়-মাঝারি সব ধরনের শিল্পের প্রতিনিধিত্বপূর্ণ এফবিসিসিআই গঠনের জন্য কাজ করছি, সমৃদ্ধ বোর্ড যাতে হয়। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ ও উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে মানসম্মত গবেষণার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই। আমি তো দুবছরের জন্য দায়িত্বে এলাম। এটাই শেষ নয়। আমরা দীর্ঘমেয়াদি কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..