সম্পাদকীয়

বাড়তি দামে সিরিঞ্জ কেনা গ্রহণযোগ্য নয়

আমাদের ওষুধ বিশ্বমানের। দেশের চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশে তৈরি হচ্ছে। দেড় শতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওষুধ। এতসব আশা জাগানিয়া খবরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের কিছু বড় অনিয়ম ও দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে হতাশ করে। ‘জেএমআই থেকে বাড়তি দামে সিরিঞ্জ কিনছে সরকার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। খবরে বলা হয়, তিন কোটি ৩০ লাখ সিরিঞ্জ কিনতে প্রতিষ্ঠানটিকে ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও বেশি দাম ধরা হয়েছে এসব সিরিঞ্জের। এ সিরিঞ্জ কিনতে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

নকল মাস্ক তৈরি ও সরবরাহের দায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জেএমআইর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনও মামলা করে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জেলেও নেয়া হয়। বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি। অভিযোগ ওঠা মানে দোষী প্রমাণ হওয়া নয়। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করাও সমীচীন নয়। আমরা মনে করি, এটি নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি কেনাকাটা প্রত্যাশিত নয়; তাও আবার বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে কেমন বার্তা যাবে, তা সহজেই অনুমেয়। নিন্দুকেরা ‘নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক’ খোঁজার চেষ্টা করবে বৈকি।

খবরের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে একই মানের সিরিঞ্জের দাম সর্বোচ্চ চার সেন্ট। এতে প্রতিটি সিরিঞ্জের দাম পড়ে ৮৫ পয়সা থেকে তিন টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। ২৫ শতাংশ মূসক ও কর যোগ করা হলে প্রতিটি সিরিঞ্জের দাম পড়ে এক টাকা ছয় পয়সা থেকে চার টাকা ২৫ পয়সা। তিন কোটি ৩০ লাখ সিরিঞ্জ কিনতে সরকারের ব্যয় হওয়ার কথা তিন কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৪ কোটি দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ কেনা হচ্ছে ৭ কোটি ৮২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ গচ্ছা যাচ্ছে তিন কোটি ৭৯ লাখ ৫০ থেকে ১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

বেশি দামে সিরিঞ্জ কেনা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। উম্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হলে সিরিঞ্জের দাম আরও কম পড়ত বলেই অনুমান। সিরিঞ্জ উৎপাদনকারী কিংবা আমদানিকারকরা হয়তো আরও কম দামে সিরিঞ্জ সরবরাহ করতে পারতেন। এতে রাষ্ট্রের অর্থ যেমন সাশ্রয় হতো, জনগণও করের অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার হচ্ছে ভেবে আশ্বস্ত হতেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, কেউ জেএমআইয়ের চেয়ে কম দামে সিরিঞ্জ সরবরাহ করতে পারলে পরবর্তীকালে সেখান থেকেই সিরিঞ্জ কেনা হবে। কিন্তু এবার কেন কেনা হলো না, তা তিনি জানাননি। বেশি দামে সিরিঞ্জ কেনায় যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তারা কোনো সুবিধা নিয়েছেন কি না, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব বলেই বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..