দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিপাকে রাজধানীর ভাড়াটিয়ারা

করোনার প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে এ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার। ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। সবাইকে বাসায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন এবং অর্থনীতি। এর ফলে ঢাকায় বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ অর্থনীতির চাকা সচল থাকুক আর না থাকুক মাস শেষে ভাড়া পরিশোধ করতেই হবে। ভাড়াটিয়ার আয় থাকুক আর না থাকুক মাস শেষে ভাড়া দিতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হবে নিম্ন আয়ের মানুষ।

নজরুল ইসলাম ঢাকার এক বাসিন্দা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। থাকেন বনশ্রী এলাকায়। তিনি বলেন, মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। গত দুই মাস ধরে মাসের ১৫ তারিখের পর বেতন পান। ফলে ১৫ তারিখের আগে বাসা ভাড়া দিতে পারেন না। এ নিয়ে দুই মাস ধরে বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছেন। এর মধ্যে চলতি মাস থেকে করোনার প্রভাব শুরু হয়েছে। অফিস থেকে বলা হয়েছে, আগামী মাসে কবে বেতন পাবেন বলা যায় না। এ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে এ চাকরিজীবীর কপালে।

নজরুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ঢাকায় বাড়ি মালিকদের অত্যাচার নতুন নয়। কোনো সমস্যা বুঝতে চায় না। করোনা পরিস্থিতি কী হয় জানি না। অফিসের অবস্থাও ভালো নয়। মাসে বাজার খরচ না হয় কষ্ট করে জোগাড় করা যাবে। কিন্তু সময়মতো ভাড়া দিতে না পারলে তো বাসা থেকে বের করে দেবে।

শনিরআখড়া রায়েরবাগ এলাকায় চটপটি বিক্রেতা শাহেদুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়। কষ্ট করে চলতে হয়। বিক্রি ভালো হলে প্রতিমাসে নিয়ম করে ভাড়া দিতে পারি। তবে করোনার প্রভাবে বিক্রি কমেছে। হয়তো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। কষ্ট করে না হয় খাওয়া যাবে। কিন্তু ভাড়া দেব কীভাবে? বাড়ি মালিক তো আমার সমস্যা বুঝবে না।

আরও কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কথা বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফ করেছে। এ নিয়ে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে কিছু স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে কাজ না থাকায় ভাড়া পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা আরও জানান, করোনার কারণে অনেকে শঙ্কায় রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের হাতে কাজ নেই। অনেকেই বাসায় বসে অফিসের কাজ করছেন। গণপরিবহন থেকে শুরু করে সব লকডাউন হয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি চাকরিজীবীরা অফিস করতে পারবেন না। আবার সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকলেও কাজ থাকবে না। এ সময়ে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারবে না। কোম্পানিগুলো সময়মতো বেতন দিতে পারবে না। ফলে বাসা ভাড়া দিতে পারবেন না। তবে দুর্যোগ মুহূর্তে করোনার যতদিন স্থায়ী হয়, ততদিন ভাড়াটিয়াদের পাশে থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে হাতেগোনা কিছু বাড়ি মালিক করোনার কারণে ভাড়াটিয়াদের প্রতি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কোনো মালিক এক মাস, কোনো মালিক দুই মাসের ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ঢাকায় ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৭ জনের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস) সংরক্ষণ করেছে। এর মধ্যে বাড়িওয়ালা দুই লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটিয়া ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪ জন, মেস সদস্য এক লাখ ২১ হাজার ৪০ জন, পরিবারের সদস্য ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ জন, ড্রাইভার ও গৃহকর্মী আট লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..