প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাণিজ্যমেলা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী: জিএসপির পেছনে না ছুটে নতুন বাজার খুঁজুন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জিএসপির পেছনে না ছুটে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রফতানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে মাসব্যাপী ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা শুধু কয়েকটি দেশ ঘুরে কোন দেশ জিএসপি দিল না, সেজন্য স্যারদের পেছনে না ঘুরে নিজেরাই অন্য বাজার খুঁজে বের করেন। তখন ওরাই আপনাদের পেছনে দৌড়াবে। কারণ আমাদের দেশ পণ্য যতটা দ্রুততার সঙ্গে সরবরাহ করতে পারবে, অন্য দেশ তা পারবে না। কাজেই আমাদের ব্যবসায়ীদেরও সে উদ্যোগ নিতে হবে। বাজার খুঁজে ফেরা আর আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রটা প্রসারিত করা।’

ব্যবসায়ীদের নতুন বাজার খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজারই শুধু নয়, কোন দেশের কোন এলাকায় কোন পণ্যের চাহিদা বেশি এবং কোন পণ্যের উৎপাদন আমাদের দেশে সম্ভব, তা আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। সেই সঙ্গে সঙ্গে সেসব পণ্য আপনাদের উৎপাদন করে নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, আপনারা ব্যবসায়ীরা ওই গতানুগতিক কিছু পণ্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে কীভাবে পণ্যের বহুমুখীকরণ করা যায় সেদিকে নজর দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় এফবিসিসিআই’র একটি পৃথক গবেষণা সেল থাকা উচিত। যাদের কাজ হবে গবেষণা করা পৃথিবীর কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা সেই পণ্য উৎপাদন করার মতো সক্ষমতা আমাদের দেশের রয়েছে কি না, আমাদের কাঁচামাল আছে কি না, সেগুলো আমদানি করা। এ ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ১০০টি দেশে এখন আমরা পণ্য রফতানি করছি। আমাদের বহু পণ্য বিদেশে যাচ্ছে। বিশ্ব এখন পরিবেশ বিষয়ে সচেতন। যে কারণে পাট ও পাটজাত পণ্যের বিরাট একটা বাজার আজকে সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পাট হলো একটি কৃষিপণ্য। কাজেই পাট ও পাটজাত পণ্য যতটা উৎপাদন করা যায়, তা আমরা বিদেশে রফতানি করতে পারি। পাট ও পাটজাত পণ্য নিয়ে গবেষণা করে আমরা পাটের জন্ম রহস্য যেমন উম্মোচন করেছি তেমনি পাট নিয়ে গবেষণা করে পাটের বেশ কিছু প্রডাক্ট আমরা পেয়েছি। যেগুলো উৎপাদন করে বিদেশেও রফতানি করতে পারি। আবার দেশের কাজেও লাগাতে পারি। এতে কৃষকও লাভবান হবে। এভাবেই আমাদের রফতানিকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উদীয়মান চামড়াশিল্প খাতের অন্তর্নিহিত সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে আমি এ বছরের জন্য চামড়া, পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্যকে জাতীয়ভাবে বার্ষিক পণ্য বা প্রডাক্ট অব দি ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করছি।’

বার্ষিক পণ্য ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এ পণ্যকে সব ধরনের সহযোগিতা ও প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৩-১৪ সালের দেশের সর্বোচ্চ রফতানি আয়কারী ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে জাতীয় রফতানি ট্রফি ও সনদ বিতরণ করেন। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, সরকারি খাতের পাশাপাশি যখন বেসরকারি খাত সুযোগ পেলো স্বাভাবিকভাবে আজকে আমাদের অর্থনীতির মূলশক্তি হিসেবে বিকশিত হয়েছে বেসরকারি খাত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কামিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এবং এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ। ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা শিল্প কল-কারখানা গড়ে তুলবেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে আমরা রফতানিকে গুরুত্ব দিই। আবার এটাও ভাবতে হবে আমার নিজের দেশে বাজার সৃষ্টি করতে হবে। নিজের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আজকে আমার দেশের মানুষের যদি আর্থিক সচ্ছলতা আসে ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে তাহলে মানুষ যেমন ভালো থাকবে তেমনি আপনাদের শিল্পের প্রসার ঘটবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বেসরকারি খাতে মোবাইল ফোনকে ছেড়ে দেওয়ায় এ পণ্যটি সাধারণ জনগণের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে উল্লেখ করে অদূর ভবিষ্যতে ফোরজিও চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকে কিন্তু বাংলাদেশে অনেকেই বিনিয়োগ করতে আসতে চাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনারাও কিন্তু আপনাদের পার্টনার খুঁজে নিতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানেই যাচ্ছি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে সব দেশই আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং বড় বড় দেশগুলো বিশাল অঙ্কে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। সেই সুযোগটা আপনাদের নিতে হবে। সেটাই আমরা চাই।