প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাণিজ্যমেলা শুরু আজ: এখনও শেষ হয়নি প্রস্তুতি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আয়োজনে মাসব্যাপী ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হচ্ছে আজ। সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেলার উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রফতানি আদেশের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের মেলা।

গতকাল শনিবার মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত ইপিবির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ কথা জানান। তবে, এখনও সম্পন্ন হয়নি মেলা প্রাঙ্গণের প্রস্তুতি। প্রায় সব স্টল ও প্যাভিলিয়নে মেলার আগের দিনও চলছে প্রস্তুতি ও সাজসজ্জার কাজ।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৩ লাখ ৭৩ বর্গফুট আয়তনের শেরেবাংলা নগর উদ্যানে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে বাণিজ্যমেলা। এতে বাংলাদেশিসহ ২১টি দেশের পণ্য ও সেবা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন পণ্য ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও অংশ নিচ্ছে মেলায়। বিভিন্ন পর্যায়ের স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা হচ্ছে ৫৮০টি। এছাড়া একটি ই-শপ, দুটি শিশুপার্ক, তিনটি রক্ত সংগ্রহকেন্দ্র, তিনটি মা ও শিশুকেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

মেলার উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (আজ) মেলা উদ্বোধনের পাশাপাশি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের রফতানি  পারফরমেন্সের ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রফতানি ট্রফি প্রদান করা হবে। ২২১টি আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই-বাছায়ের মাধ্যমে ২৯টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণপদক, ২২টি প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্যপদক ও ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ব্রোঞ্জপদকের জন্য মনোনয়ন করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই নিজস্ব জমিতে বাণিজ্যমেলা আয়োজন হবে। এরই মধ্যে চীনা অর্থায়নে পূর্বাচলে ৬০ বিঘা জমি নিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী তিন বছর পর সেখানে মেলা আয়োজন করা যাবে। তার আগ পর্যন্ত শের-এ-বাংলা নগরেই মেলা চলবে।

তিনি জানান, দেশি-বিদেশি ভোক্তাদের বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে পরিচিত করা, সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদকদের নিত্যনতুন এবং মানসম্পন্ন পণ্য নিয়ে ভোক্তার মুখোমুখী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি, পণ্যের গুণগত মানবৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য আনয়ন, মূল্যের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশি-বিদেশি পণ্যের তুলনামূলক বিষয়ে ভোক্তাদেরকে সম্যক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশে এ মেলা আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্রমতে, ২০১০ সালে ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ২০১১ সালে ২৫ কোটি, ২০১২ সালে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি টাকার রফতানি আদেশ এসেছে বাণিজ্যমেলা থেকে। ২০১৪ সালে অবশ্য রফতানি আদেশের পরিমাণ কমে যায়। সে বছর ৮০ কোটি এবং ২০১৫ সালে ৮৫ কোটি টাকা রফতানি আদেশ আসে। মন্ত্রী পূর্ববর্তী বছরের মেলার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘গতবছরে মেলায় রফতানি আদেশ আসে ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এবার রফতানি আদেশের পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেলার আয়োজন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, এবারই প্রথম ভার্চুয়ালি উপস্থাপন করা হচ্ছে মেলায়। পুরো বাণিজ্যমেলার ভেন্যুকে ৩৬০ ডিগ্রিতে ভার্চুয়াল করা হচ্ছে। গুগল স্ট্রিট ভিউ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও গুগলের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের যে কেউ যে কোনো সময় অনলাইনে বাণিজ্যমেলার দৃশ্য দেখতে পাবেন। মেলার নিরাপত্তায় পুরো প্রাঙ্গণে ১৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, মাফরুহা সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, মেলার প্রধান ফটকের দুই পাশে ৩২টি টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনেও সংগ্রহ করা যাবে মেলার প্রবেশ টিকিট। প্রবেশ টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও শিশুদের জন্য ২০ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল পর্যন্ত মেলার প্রধান ফটক এলাকার নিরাপত্তার জন্য পর্যবেক্ষণ চৌকি (ওয়াচ টাওয়ার) নির্মাণ শেষ হয়নি। অধিকাংশ স্টলেই উদ্যোক্তারা মেলার জন্য তাদের পণ্যসামগ্রী সাজাতে পারেননি। বড় বড় বিক্রয় কেন্দ্রে দেখা গেছে অস্থায়ী বিক্রয়কর্মী হিসেবে চাকরির জন্য লাইন দিয়েছেন অনেকে। বিক্রয়কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও শেষ করতে পারেনি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ প্রসঙ্গে প্যাভিলিয়ন কর্মকর্তারা জানান, শুরুর দিকে এমন অসংলগ্নতা সবসময়ই থাকে। কয়েকদিনের মধ্যেই মেলা জমে উঠবে বলে আশা করেন তারা।