বিশ্ব সংবাদ

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে চীনের রফতানিতে টানা পতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের আগস্টে চীনের রফতানি কমেছে। এ মাসে দেশটির আমদানিও টানা চার মাসের মতো কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা হ্রাসে চীনের রফতানি খাত বড় ধাক্কা খাচ্ছে। গত জুলাই বাদে টানা ১৫ মাসের মতো আগস্টে দেশটির রফতানি কমেছে। দেশ ও বিদেশ থেকে মোট ক্রয়াদেশও প্রতিনিয়ত কমছে। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনমতে, আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনের রফতানি কমেছে এক শতাংশ। গত জুনের পর এটিই সবচেয়ে বড় রফতানি পতন। জুনে কমেছিল এক দশমিক তিন শতাংশ। গত জুলাইয়ে আবার রফতানি তিন দশমিক তিন শতাংশ বেড়েছিল। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সম্প্রতি চীন ব্যাপক প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে রয়টার্সের জরিপে প্রত্যাশা করা হয়েছিল আগস্টে রফতানি বাড়বে। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে তা আরও কমল। আগামী মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি আরও কমবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ ১ অক্টোবর ও ১৫ ডিসেম্বর আরও দুই দফায় চীনা পণ্য রফতানিতে মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
রফতানির পাশাপাশি আমদানিও কমেছে চীনের। গত এপ্রিল থেকে টানা চার মাস কমছে আমদানি। তথ্যমতে, আগস্টে রফতানি কমেছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ। গত জুলাই মাসেও একই হারে আমদানি কমেছিল।
আগস্টে চীনের শিল্প উৎপাদনও ফের কমেছে। এ নিয়ে টানা চার মাস দেশটির শিল্পোৎপাদন কমল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা হ্রাস কারখানা কার্যক্রমের হ্রাসের অন্যতম কারণ। এতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আবারও শ্লথগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস গতকাল শনিবার জানিয়েছে, দেশটির পার্সচেজিং ম্যানেজার’স ইনডেক্স (পিএমআই) কমে ৪৯ দশমিক পাঁচ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত জুলাইয়ে এ পয়েন্ট ছিল ৪৯ দশমিক সাত পয়েন্ট। ৫০ পয়েন্টের নিচে পিএমআই পৌঁছালে তা প্রবৃদ্ধির খারাপ অবস্থা প্রকাশ করে। রয়টার্সের জরিপে আগস্টে চীনের পিএমআই আগের মাস থেকে অপরিবর্তনীয় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি থেকে বের হতে পারছে না চীন। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) কমেছে প্রবৃদ্ধির হার। এ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক দুই শতাংশ। ১৯৯২ সালের পর এটি সর্বনি¤œ প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরে অর্থনীতিকে চাঙা করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয় চীন। ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কর কমিয়েছে সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই অর্থনীতির গতি বাড়েনি।
গত দশকের বিশ্ব প্রবৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশ এসেছে চীন থেকে। অথচ দেশটির অর্থনীতিতে এখন দুর্বল অবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ..