বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব চীনের শিল্পোৎপাদন কমছেই

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের আগস্টে চীনের শিল্প উৎপাদন ফের কমেছে। এ নিয়ে টানা চার মাস দেশটির শিল্পোৎপাদন কমল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা হ্রাস কারখানা কার্যক্রমের হ্রাসের অন্যতম কারণ। এতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আবারও শ্লথগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খবর: রয়টার্স।
বিশাল এ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চলমান শ্লথগতি থেকে চীনের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো দরকার। কারণ ইতোমধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে চীনের প্রবৃদ্ধি তলানিতে রয়েছে। চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস গতকাল শনিবার জানিয়েছে, দেশটির পার্সচেজিং ম্যানেজার’স ইনডেক্স (পিএমআই) কমে ৪৯ দশমিক পাঁচ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত জুলাইয়ে এ পয়েন্ট ছিল ৪৯ দশমিক সাত পয়েন্ট। ৫০ পয়েন্টের নিচে পিএমআই পৌঁছালে তা প্রবৃদ্ধির খারাপ অবস্থা প্রকাশ করে। রয়টার্সের জরিপে আগস্টে চীনের পিএমআই আগের মাস থেকে অপরিবর্তনীয় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
কারখানার হিসাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা হ্রাসে চীনের রফতানি খাত বড় ধাক্কা খাচ্ছে। টানা ১৫ মাসের মতো আগস্টে দেশটির রফতানি কমেছে। দেশ ও বিদেশ থেকে মোট ক্রয়াদেশও প্রতিনিয়ত কমছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি থেকে বের হতে পারছে না চীন। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) কমেছে প্রবৃদ্ধির হার। এ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক দুই শতাংশ। ১৯৯২ সালের পর এটি সর্বনি¤œ প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরে অর্থনীতিকে চাঙা করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয় চীন। ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কর কমিয়েছে সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই অর্থনীতির গতি বাড়েনি।
গত দশকের বিশ্ব প্রবৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশ এসেছে চীন থেকে। অথচ দেশটির অর্থনীতিতে এখন দুর্বল অবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বহুদিন ধরেই বৈরী সম্পর্কের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। একে অন্যের ওপর কয়েক বিলিয়ন ডলার শুল্কারোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেছে তারা। উভয় দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে পেরে এ বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করে দু’দেশ। কিন্তু আলোচনা চলামান থাকা অবস্থায় ট্রাম্প শুল্ক বাড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা ৫৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে অতিরিক্ত আরও পাঁচ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের আগের আরোপ করা শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং সাড়ে সাত হাজার কোটি ডলারের মার্কিন আমদানি পণ্যে শুল্ক বসানোর পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিকভাবে চীনের যে ২৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে, তা ১ অক্টোবর থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশ হবে বলে জানান এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। বাকি ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ১৫ শতাংশ; এসব পণ্যের অর্ধেকে শুল্ক বসবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হবে পরের অর্ধেকে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় থেকেও চীনা আমদানি পণ্যে আরও শুল্কারোপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উভয় দেশই পরস্পরের পণ্য আমদানিতে হাজার হাজার কোটি ডলারের শুল্কারোপ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের আরও অনেক দেশের ওপর। ফলে তারা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ..