বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে ১%

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। তবে দুই দেশ আবারও পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ করলে সম্প্রতি এ যুদ্ধ তীব্র হয়। এতে দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার জানিয়েছেন বাণিজ্যযুদ্ধে দেশটির এক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে। খবর: ইকোনমিক টাইমস।
গত বছর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ছয় দশমিক আট শতাংশ। প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি চলায় বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ছয় থেকে সাড়ে ছয় শতাংশের মধ্যে।
কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) সাত সদস্যবিশিষ্ট এলিট পলিবুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ওয়াং ইয়াং গতকাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এক শতাংশ জিডিপি কমবে বেইজিংয়ের।
শুল্কের বোঝা চাপিয়ে চীনকে কোণঠাসা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ চাপে আত্মসমর্পণ করবে না চীন। তারাও তিন হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্কারোপ করে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কয়েক মাসব্যাপী চলা বাণিজ্য মতবিরোধ নিয়ে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হলো। ওই আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে এক মাসের আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি না হলে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা প্রতিটি পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করবে ওয়াশিংটন।
বহুদিন ধরেই বৈরী সম্পর্কের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। একে অন্যের ওপর কয়েক বিলিয়ন ডলার শুল্কারোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেছে তারা। উভয় দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে পেরে এ বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করে দু’দেশ। কিন্তু আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় ট্রাম্প শুল্ক বাড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দিয়েছেন। কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দু’দিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দু’দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উভয় দেশই পরস্পরের পণ্য আমদানিতে হাজার হাজার কোটি ডলারের শুল্কারোপ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের আরও অনেক দেশের ওপর।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..