বিশ্ব সংবাদ

বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানের অনিশ্চয়তা এশিয়ার পুঁজিবাজারে দরপতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্যযুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে চীন। সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ এরই মধ্যে খোলাখুলি আলোচনাও শুরু করেছে। প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। এদিকে বাণিজ্যযুদ্ধের অবসানে এখনও কার্যকর কোনো সমাধান না আসায় উদ্বেগে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে এশিয়ার পুঁজিবাজারে সূচকের পতন ঘটে। খবর: রয়টার্স, সিএনএন।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং বলেন, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে আগ্রহী তারা। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এমনকি সমগ্র বিশ্বের স্বার্থ জড়িত। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বিঘœ ঘটাতে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে।

এতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন এবং ব্যবসায়ের পরিবেশও নষ্ট হবে বলে মনে করেন তারা। বাণিজ্যবিশ্লেষক ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কয়েক দিন আগে জানিয়েছেন, দু’দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের বাণিজ্যচুক্তি চলতি বছর নাও হতে পারে। শুল্ক প্রত্যাহারে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের অব্যাহত চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে এ শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অবশ্য চীনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। বেইজিংয়ে এক অনুষ্ঠানেও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে বলেছেন, তিনি চুক্তির ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

চুক্তির সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জাও ফেং বলেছেন, এ বিষয়ে তার কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তবে দুই পক্ষই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। বাইরে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রাথমিক বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবারের লেনদেনে এশিয়ার অধিকাংশ পুঁজিবাজারের সূচকে পতন হয়। হংকংয়ের হ্যাংসেংয়ের সূচক অন্তত দুই দশমিক দুই শতাংশ কমে যায়। অবশ্য পরে কিছুটা উন্নতি হয়। এছাড়া জাপানের নিক্কেই সূচক কমে যায় এক দশমিক সাত শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারের সূচকের পতন হয় এক দশমিক চার শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারেও সূচকের নি¤œমুখী প্রবণতার মধ্যে লেনদেন হয়।

বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনে চীন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না বলে দাবি করে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চীনের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত নন। এছাড়া হংকংয়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে উভয় দেশের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে বিল পাস হওয়ায় তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এ বিল নিয়ে আরও সামনে এগিয়ে গেলে চীনও পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এর আগে গত সপ্তাহে বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে বলে জানায় উভয় পক্ষ। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন এবং দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজার এ আলোচনায় অংশ নেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..