বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে গঠনমূলক আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে। গত শনিবার টেলিফোনে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন এবং দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজার এ আলোচনয় অংশ নেন। খবর: সিনহুয়া।

ফোনালাপে প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কয়েক মাস ধরে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের সময়ে আরোপ করা শুল্ক ধাপে ধাপে প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে বেইজিং ও ওয়াশিংটন। তবে এতে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনা মোবাইল, ল্যাপটপ ও খেলনায় উল্লেখযোগ্য শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিমাণ ১৫৬ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাও ফেং বলেন, যে কোনো চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল শুল্ক প্রত্যাহার। বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপে পৌঁছানোর জন্য উভয় দেশকেই ধাপে ধাপে কিছু মাত্রায় শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং শুল্ক প্রত্যাহারের মাধ্যমেই এর সমাপ্তি হওয়া উচিত। তিনি জানান, বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের জন্য উভয় দেশ শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে উভয় দেশের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীরা সঠিক উপায়ে কিছু মৌলিক উদ্বেগ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। উভয় পক্ষই বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারে একমত হয়েছেন এবং আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে কবে এ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে মুখপাত্র কিছু বলেননি।

গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো জানান, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিভেদ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে এবং তা চুক্তিতে রূপ নিতে পারে। এরপর এটির ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মার্কিন পুঁজিবাজারে এবং বিনিয়োগকারীরা মানসিকভাবেও চাঙা হয়ে ওঠেন। প্রথমবারের মতো গত শুক্রবার অন্যতম প্রধান মার্কিন শেয়ারসূচক ডাও জোন্স ২৮ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচকটির এ রেকর্ডকে বাজারবিশ্লেষকরা নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে চীনের হাজার হাজার কোটি ডলারের রফতানি পণ্যে শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের বাণিজ্য ও শিল্পনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও চীন সে পথে না হেঁটে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তারাও হাজার হাজার কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দাবি, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি এবং তা স্থানান্তর বন্ধ করতে হবে চীনকে। এছাড়া চীনের স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে যে ধরনের প্রতিবন্ধক ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..