বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্য ইস্যুতে আলোচনা চান চীন-মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বাণিজ্য নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের পণ্য আমদানির ওপর বড় অঙ্কের শুল্কারোপ আদেশে সই করলে সে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, চীনের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা লিউ হি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্টিভেন মুচিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি বাণিজ্য ইস্যুটির আলোচনা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছেন।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা লিউ ফোনে মুচিনকে বলেন, ‘বেইজিং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত।’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চীন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক রক্ষায় দুই দেশের একত্রে কাজ করা উচিত বলে মুচিনকে আহ্বান জানান লিউ।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি আইন পাস করেন এবং একে ‘অনেকগুলোর মধ্যে প্রথম’ বাণিজ্য পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা দেন। এর আগে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের আমদানির পর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা ট্রাম্প মেধাস্বত্ব চুরির ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারে মেধাস্বত্ব চুরি এবং বাণিজ্যে অন্যায্য চর্চার অভিযোগ জানিয়ে আসছে। গত বছর মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ অনুচ্ছেদের আওতায় একটি তদন্ত পরিচালনা করছে দেশটি। ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে বিপুল আকারে মেধাস্বত্ব চুরি চলছে।

ট্রাম্প আইন পাস করার কয়েক ঘণ্টা পরই বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের তালিকা ঘোষণা করে, যেগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করা হতে পারে। শুল্কের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে চীন এখনই এ শুল্ক আরোপ কার্যকর না করায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ আছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চীন বাণিজ্যযুদ্ধ চায় না, তবে দেশটি কোনোভাবেই বাণিজ্যযুদ্ধকে ভয়ও পায় না। চীন আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসবে, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কটিকে একটি বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..