সম্পাদকীয়

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্যবস্থা নিন

বিদায়ী অর্থবছরে সিঅ্যান্ডএফভিত্তিক আমদানি ব্যয় বেড়েছে শিল্প খাতে এবং খাদ্যপণ্যে কমেছে। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, তেলবীজ, মসলা, সার, তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল, লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য মৌলধাতু, কাপড় ও চামড়াজাত পণ্যে ব্যবহৃত রং ও অন্যান্য উপকরণসহ বেশিরভাগ পণ্যেই আমদানি ব্যয় বেড়েছে। চিনি, ওষুধ ও কাঁচা তুলার মতো কয়েকটি খাতে ব্যয় কমলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়।
একটি দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অবদান অনস্বীকার্য। এটির মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণত অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়লে আমদানি
বাড়ে। আবার মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়লেও সার্বিক আমদানি বাড়ে।
শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহার্য যে কাঁচামাল আমদানি করতে হয়, সেটি দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া রফতানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স কিছুটা ইতিবাচক হলেও তা আমদানি ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
বাণিজ্য ঘাটতি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে রফতানি বাড়াতে হবে, পণ্য বাড়াতে হবে, নতুন বাজার খুঁজতে হবে। কোনো দেশের সঙ্গে শুল্কবৈষম্য থাকলে তাতে সামঞ্জস্য আনতে হবে।
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগান দিতে হচ্ছে। নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে, তাই আমদানি বাড়ছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি যতটা বেড়েছে দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে ততটা বেড়েছে কি না, তাও বিবেচ্য। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সেটি কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ ওভার ইনভয়েসিং করে বা অতিমূল্য দেখিয়ে দেশের বাইরে কিছু অর্থ পাচার হতে পারে। আমরা মনে করি যথানিয়মে আমদানি হলে ব্যয় অনেকটা কমে আসবে।
সেবা খাতে বেতনভাতা বাবদ বিদেশিদের বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অথচ এ খাতে আমাদের আয় তুলনামূলক কম। ঘাটতি কমাতে দেশীয় পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে হবে।
আমাদের আয়ের একটি বড় উৎস রেমিট্যান্স। এটির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ভোগের সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত জনশক্তি রফতানি বাড়াতে হবে।
শিল্পপণ্য ও সেবার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..