বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্র-চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দেড় বছরের অধিক সময় বাণিজ্যযুদ্ধের পর অবশেষে প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দু’দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের

উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এ চুক্তি চলতি বছরও বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা কাটাতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স।

দীর্ঘ আলোচনার পর এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনবে। আর চীনা নেতারা এটিকে উইন-উইন চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি দুপক্ষের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো করবে বলে তারা মনে করছেন।

প্রথম পর্বের এ চুক্তি স্বাক্ষর করার পর এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার। ২০২০ সালে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যকার এ আলোচনা প্রথম পর্বের তুলনায় আরও জটিল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চুক্তি হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদ্যমান শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও একই ধরনের বাণিজ্যবিরোধ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, যার সমাধানে আসতে পারেনি উভয় পক্ষ। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ে জটিলতাও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

নতুন বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বড়িয়ে ২০ হাজার কোটি ডলারের ওপরে নিয়ে যাবে চীন। এর মধ্যে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াবে তিন হাজার ২০০ কোটি ডলারের। পাশাপাশি শিল্পপণ্য সাত হাজার কোটি ডলার, বৈদ্যুতিক সামগ্রী পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ডলার এবং সেবা খাতে তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়াবে চীন। পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক পণ্য চুরির যে অভিযোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে চীন। এজন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

বিপরীতে ৩৬ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত চীনা পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। আর ১০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত মার্কিন পণ্য আমদানিতে শুল্ককাঠামো পুনর্বিন্যাস করবে চীন। এই বাণিজ্যযুদ্ধ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নতির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অবশ্য এতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমলেও এখনও ঘাটতির পরিমাণ ৩৬ হাজার কোটি ডলার।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ ২০১৬ সালে ছিল পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০১৮ সালে তা ৯০৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে তা কমে মাত্র আড়াইশ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এমনকি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রবৃদ্ধি কমারও পূর্বাভাস রয়েছে। অনেক বিষয়ে এখনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দু’দেশ। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জিওরগিয়েভা বলেছেন, এই যুদ্ধে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্বের পুঁজিবাজারের সূচকে চাঙা ভাব লক্ষ করা যায়। তবে পরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থেকে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ পেলে ফের সূচকের পতন হয়।

জিও-টেকনোলজিক্যাল বিশেষজ্ঞ পল টিওলো বলেছেন, প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখলেও প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্ব ও অনাস্থা কতটুকু কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..