বাণিজ্য জোরদারের তাগিদ অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনারের

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার গত রোববার সন্ধ্যায় বন্দর নগরীর একটি হোটেলে চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও গ্রুপের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বলেন, তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার দেশ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তিনি আগামী বছর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হবে বলে সভায় অবহিত করেন। হাইকমিশনার কভিড-১৯ মহামারির কারণে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ছন্দপতন ঘটেছে বলে মন্তব্য করে আগামী দিনগুলোতে অধিকতর বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সম্পর্কোন্নয়নের আশা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম ও সিনিয়র সহসভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সহসভাপতি শওকত আলী চৌধুরী, বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী, আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক শাহ শফিকুল ইসলাম, সান শাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল সাফিয়া রহমান, হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ডানকান ম্যাককালা ও কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হাইকমিশনার সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেইমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (টিফা) চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং  বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। জেরেমি ব্রুয়ার দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ও কভিডকালীন বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চিটাগং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উভয় দেশের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে মন্তব্য করেন। মাহবুবুল আলম দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে বেটার্মিনাল নির্মাণ শেষে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তন এবং ব্যবসায়ীদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাস পাবে। চেম্বার সভাপতি বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে লজিস্টিকস সাপোর্ট আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

তিনি বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে অস্ট্রেলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। মাহবুবুল আলম চিটাগং চেম্বারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সেন্টার অব এক্সিলেন্স সম্পর্কে অবহিত করে অস্ট্রেলীয় স্ট্যান্ডার্ড কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার এবং যৌথ রিসার্চ কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি আগামী বছর উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠান চিটাগং চেম্বার ও হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামেও করার আহ্বান জানান।

চিটাগং চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উভয় দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরও বেশি একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। সিনিয়র সহসভাপতি কভিডজনিত কারণে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, নতুন কোনো জাহাজ ও কনটেইনার তৈরি হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন এবং দেশের অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, ব্লু-ইকোনমিতে অস্ট্রেলিয়ার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বিষয় ➧

সর্বশেষ..