বিশ্ব সংবাদ

বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে আবার যুক্তরাজ্য-ইইউ’র আলোচনা শুরু

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা ফের শুরু হচ্ছে। এর আগে ইইউ’র প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা বন্ধ রেখেছিলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে আবার দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনা শুরু হচ্ছে। খবর: বিবিসি।

বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিরোধ মিটিয়ে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরছে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। এজন্য ইইউর মনোভাবকে দায়ী করে তিনি আলোচনাও বন্ধ রেখেছিলেন। বুধবার আবার মতবদল করেছে জনসনের সরকার। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ব্রিটেনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ডেভিড ফ্রস্ট এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনার ভিত্তি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, সব দায় শুধু ব্রিটেনের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে জট ছাড়াতে বার্নিয়ের দুই পক্ষের মধ্যে আপসের কথা বলেছেন। তাই বৃহস্পতিবার দুপুর (স্থানীয় সময়) থেকে আলোচনা শুরু হবে। হাতে সময় কম থাকায় প্রতিদিনই আলোচনা চলবে। অর্থাৎ সপ্তাহান্তেও কোনো বিরতি হবে না। আপাতত ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার কর্মসূচি স্থির হলেও দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে তার মেয়াদ বাড়ানো হবে।

কয়েক মাস ধরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য দূর হচ্ছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঐকমত্যের সম্ভাবনা কতটা বাস্তব, সে বিষয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। ব্রিটেন ও ইইউর কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ন্যায্য পরিবেশ, মাছ ধরার অধিকার এবং বিরোধ মেটাতে আইনি কাঠামোর মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষই আপসের লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তবে কয়েকটি সূত্র বলছে, নেপথ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।

বুধবার মিশেল বার্নিয়ের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনে বলেন, দুই পক্ষই আপস করতে রাজি হলে এখনও বোঝাপড়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আর মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে ঐকমত্য অর্জন এবং সেই চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা একেবারে অসম্ভব নয় বলে মনে করেন বার্নিয়ের।

এর আগে ইউরোপীয় সরকার পরিষদের প্রধান শার্ল মিশেল পার্লামেন্টের সদস্যদের বলেন, হাতে সময় খুব কম। তবে ইইউ কোনো বিরতি ছাড়াই সব বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। ব্রিটেনকে স্বাধীনভাবে সেই প্রস্তাব বিবেচনা করতে হবে, এ কথা বলেন মিশেল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..