দিনের খবর সারা বাংলা

বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারি বর্ষণে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

প্রতিনিধি, বান্দরবান: অবিরাম ভারি বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে বান্দরবানের নিন্মাঞ্চল। প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থান তলিয়ে যাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্র অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় খোলা হয়েছে ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। সেগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৬০০ দুর্গত মানুষ। এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় থানচিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জিন্নাপাড়া এলাকায় আটকা পড়েছেন ১৬ পর্যটক।
জানা গেছে, গত শনিবার থেকে বান্দরবানে অবিরাম ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের চেয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১১৬ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৮৫ মিলি মিটার। বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বাজালিয়া, বরদুয়ারাসহ তিনটি পয়েন্টে প্রধান সড়ক তলিয়ে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, ঢাকা, কক্সবাজারসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বান্দরবান শহর থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো বাস। তবে পানির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কিছুকিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
বাজালিয়া এলাকার মোহাম্মদ নাজিম, আবদুল খালেক জানান, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কটি তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি যেন এ অঞ্চলের মানুষের নিয়তি, দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। সড়কটি উঁচু করার জন্য কয়েক দফায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি আজও।
জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভ্রত দাশ ঝুন্টু জানান, প্রধান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কেরানীহাট সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো গাড়িই স্টেশন ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে পাহাড়ধসের কারণে রুমা-থানছি-রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে টানা বর্ষণে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও সদরের ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়াসহ আশেপাশের নিন্মাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু নদীতে পানি বেড়ে বিপজ্জনক এবং নৌ-চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বান্দরবানের থানচিতে ট্যুরিস্ট স্পট রেমাক্রী-তীন্দু-বড়মদক এবং রুমা উপজেলার তিনাপ সাইতার ঝরনা, চিংড়ি ঝরনা, রিজুক ঝরনা, বগালেক, ক্যাওক্রাডংসহ দুর্গম দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় নৌ-চলাচল বন্ধ থাকায় থানচিতে দুর্গম জিননা পাড়ায় আটকা পড়েছেন ১৬ জনের বেশি পর্যটক। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় থানচিতে ভ্রমণে যাওয়া ১৬ জন পর্যটকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না স্বজনরা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে আটকেপড়া পর্যটকরা থানচির দুর্গম জিন্নাপাড়াসহ আশেপাশের এলাকাগুলো নিরাপদেই রয়েছেন।
থানচি থানার ওসি জুবায়েরুল হক জানান, থানচি উপজেলা জিন্নাপাড়া’সহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে ১৬ জন পর্যটক আটকাপড়ার খবর পেয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে আটকেপড়া পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তারা ফিরতে পারেননি। তবে আটকেপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাইক্লোন সেন্টারে ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে বন্যা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা সাড়ে ছয় শতাধিকের মতো দুর্গত মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্র অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..