খবর

বান্দরবানে ভালুকের আক্রমণে একজন নিহত, আহত ২

প্রতিনিধি, বান্দরবান: বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে জুমক্ষেতে কাজ করার সময় ‘ভালুকের আক্রমণে’ এক পাড়াপ্রধান নিহত হয়েছেন; আক্রমণে আহত হয়েছেন তার নাতিসহ দুজন। নিহত অঙওয়াই ম্রো (৫৫) সদর উপজেলার টংকবতি ইউনিয়নের চিম্বুক পাহাড় এলাকার পাবলা হেডম্যান পাড়ার প্রধান।

ওই পাড়ার বাসিন্দা দনওয়াই ম্রো বলেন, গতকাল সকালে পাড়ার পাশে একটি জুমক্ষেতে কাজ করছিলেন অঙওয়াই। সঙ্গে ছিল তার চার বছরের নাতি মাওলি। হঠাৎ একটা ভালুক তাদের আক্রমণ করে। মাওলিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নয়ন দাশ বলেন, ‘অঙওয়াই ম্রোর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নখের আঘাত রয়েছে। তার মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই অঙওয়াই মারা গেছেন।’

লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান।

এদিকে আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে গেছে সেনাবাহিনী। আহতরা হলেন পিং রিংরাও ম্রো ও মাংলিও ম্রো।

সেনাসূত্রে জানা যায়, কাজের তাগিদে ওই তিনজন জুম চাষের জন্য গেলে সেখানে তাদের ওপর হামলা চালায় ভালুক। এ সময় ভালুকটি পিং রিংরাও ম্রোর মুখের একাংশের মাংসসহ চোখ উপড়ে ফেলে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসক তাদের চট্টগ্রামে রেফার করেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে চট্টগ্রামে নিতে না পারায় আহতদের স্বজনরা সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হন। এরপর বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল হকের নির্দেশে বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে পাঠায়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল হক জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনীর নিজস্ব হেলিকপ্টারে আহতদের চট্টগ্রাম নেয়া হয়েছে। পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও তাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..