Print Date & Time : 21 January 2021 Thursday 1:29 pm

বাপ্পীর বিল্ডট্রেড ফয়েলসের বন্ড লাইসেন্স স্থগিত, বিআইএন লক

প্রকাশ: November 21, 2020 সময়- 11:46 pm

রহমত রহমান: বিল্ডট্রেড গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিল্ডট্রেড ফয়েলস লিমিটেড (বিএফএল)। প্রতিষ্ঠানটি জার্মান প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার, ফয়েল কনটেইনারসহ অ্যালুমিনিয়ামের তৈরির বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে। ব্যবসা ও মিডিয়া জগতের এনায়েতুর রহমান বাপ্পীর প্রতিষ্ঠান এটি। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক নিরীক্ষা করার জন্য যথাসময়ে দলিলাদি জমা দেয়নি। এর মাধ্যমে কাস্টমস আইন, বন্ড লাইসেন্স বিধিমালা ও শর্ত ভঙ্গ করেছে প্রতিষ্ঠান।

অনিয়মের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স স্থগিত ও বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) লক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছে, যা বিচারাদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারাদেশ দেওয়া সেই সরকারি বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। সেই বকেয়া পরিশোধের চূড়ান্ত তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত, বিআইএন লক করা এবং চূড়ান্ত তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে কয়েকদিন ধরে ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা ভালো নয়। অনেকে ছাঁটাই হয়েছে। বন্ড লাইসেন্স স্থগিত ও বিআইএন লক হওয়ার বিষয়টি জানা নেই। আমরা বন্ড কমিশনারেটে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’

এনবিআর সূত্র জানায়, বিল্ডট্রেড ফয়েলস লিমিটেড ২০১৬ সালে বন্ড লাইসেন্স পায়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ আগস্ট ধামরাই এলাকায় ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একটি দল প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়। বন্ডেড লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী, প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর নিরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি। এছাড়া নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে বন্ড কমিশনারেটে কোনো দলিলাদি জমা দেয়নি এবং নিরীক্ষা কাজে কোনো সহযোগিতা করেনি।

সূত্র আরও জানায়, এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ

 পায় ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। পরে প্রতিষ্ঠানকে দাবিনামা সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে। প্রতিষ্ঠানের জবাব ও শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২০ জুন বিচারাদেশ দেয় বন্ড কমিশনার। যাতে প্রতিষ্ঠানকে ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৪ টাকা রাজস্ব পরিশোধের আদেশ দেয়। প্রতিষ্ঠানকে সরকারি এ বকেয়া পরিশোধে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান তা পরিশোধ করেনি। পরে বকেয়া পরিশোধে প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের ৭ জুলাই ও ২২ সেপ্টেম্বর তাগিদপত্র দেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেনি।

যথাসময়ে নিরীক্ষা দলিলাদি দাখিল না করা এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা কাস্টমস আইন, ১৯৬৯-এর ধারা ১৩, উপধারা (১), ধারা ২৬, ৮৬ এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০০৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অমান্য ও শর্ত ভঙ্গ করায় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত ও বিআইএন লক করেছে বন্ড কমিশনারেট। একইসঙ্গে বকেয়া রাজস্ব পরিশোধে প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। ৮ নভেম্বর বন্ড কমিশনার মো. শওকাত হোসেন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত, বিআইএন লক ও চূড়ান্ত তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, বিল্ডট্রেড ফয়েলস লিমিটেড ছাড়াও গ্রুপের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান হলোÑবিল্ডট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও বিল্ডট্রেড কালার কোট লিমিটেড। এনায়েতুর রহমান বাপ্পীর তিনটি প্রতিষ্ঠানই ঋণখেলাপি। তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। চ্যানেল ৯ নামে গ্রুপের টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রুপের বিল্ডট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। দুটি মামলায় এ ফাঁকি। একটি মামলায় ২৬ কোটি ৬৮ লাখ ও অন্যটিতে ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মামলায় বিলট্রেড দুই কোটি টাকা জমা দিয়েছে। ভ্যাট ফাঁকির টাকা পরিশোধ না করায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট।