সম্পাদকীয়

বায়িং হাউস রেটিংয়ের আওতায় আসুক

বিদায়ী অর্থবছরে সংখ্যা ও পরিমাণ উভয় বিচারেই হস্তান্তরযোগ্য ঋণপত্র কমেছে। তৈরি পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেই মূলত এ ধরনের ঋণপত্রের ব্যবহার কমে আসছে। বায়িং হাউস এখানে সবচেয়ে অদক্ষতার পরিচয় দেয় বলে গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বায়িং হাউসও রেটিংয়ের আওতায় আনা দরকার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা যায়।

প্রতিবেদনে জানা যায়, বায়িং হাউসের অদক্ষতায় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেমন আগ্রহ হারাচ্ছে, তেমনি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষও অসুবিধায় পড়ে। এ সংকট সমাধানে বায়িং হাউসের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বায়িং হাউসের সক্ষমতা শিগগিরই বাড়বে বলে আমরা আশা রাখি।

গত অর্থবছরে ব্যাংকে খোলা এলসির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে ছয় শতাংশ এবং অর্থের পরিমাণ কমেছে পাঁচ শতাংশ। অথচ তৈরি পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ ধরনের ঋণপত্র এক বিশেষ সুবিধা এনে দেয়। কিন্তু বায়িং হাউসের নানান ভুল-ত্রুটির কারণে পণ্য রফতানিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কার্যত, হস্তান্তরযোগ্য ঋণপত্রে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কোনো যোগাযোগ থাকে না। যাবতীয় কার্যাবলিতে বায়িং হাউসই মধ্যস্ততা করে। তারাই ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাই বিদেশি ক্রেতাকে নতুন করে এ ঋণপত্রে আগ্রহী করে তোলার জন্য বায়িং হাউসগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। উপরন্তু, বায়িং হাউসের ভুলের কারণে ব্যাংক ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অসুবিধায় পড়লেও তৈরি পোশাক রফতানি বাণিজ্যের এক বড় অংশের মুনাফা ঢোকে বায়িং হাউসের পকেটে। এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ অনিবার্য। বায়িং হাউসগুলোকে রেটিংয়ের আওতায় আনলে তারা এ ধরনের ভুলের দায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হবে বলে আশা করা যায়। এতে অন্ততপক্ষে ব্যাংক ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্বস্তি পাবে। উল্লেখ্য, রফতানি প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে রেটিংয়ের আওতায় আনা গেলে বায়িং হাউস কেন নয়? তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনে যেহেতু কয়েকটি পক্ষ কাজ করে, সেহেতু সামগ্রিক প্রণালির জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যৌক্তিক হবে বলে মনে করি। সেক্ষেত্রে এনবিআর, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ একটি সমন্বিত উপায়ে উচ্চ কমিটির মাধ্যমে তদারকির দায়িত্ব নিতে পারে। তবে এ ধরনের বাণিজ্যে বায়িং হাউসের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য। তাই তাদের সুবিধা-অসুবিধার সুরক্ষাতেই সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তৈরি পোশাক খাত-সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা আনয়নে সরকার যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছে, তা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই এ সংকটের সুরাহা হতে পারে।   

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..