সম্পাদকীয়

বারবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়

কয়েক বছর আগেও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বেশ নাজুক ছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি লোডশেডিং কমেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রিক সেবার আওতা বেড়েছে। কিন্তু চাহিদা মেটাতে গিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা অনেক বেড়ে গেছে। এ কেন্দ্রগুলো বেশ ব্যয়বহুল। তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাড়তি মূল্যে কিনতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ওই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপছে ভোক্তাদের ওপর। অথচ সরকারের উচিত ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে নজর দেওয়া। তবে তা না করে দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘১ মার্চ থেকে কার্যকর: গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ৫.৩%’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন এ তিন ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ সেবার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তাদের প্রতি মাসে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে হচ্ছে সাত টাকা ১৩ পয়সা। এভাবে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ বাড়ানো অযৌক্তিক। এতে শিল্প, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট অন্য খাতেও ব্যয় বাড়বে, যা উদ্বেগজনক।

আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক সমস্যা ও অব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে। কয়লার মতো পরিবেশ-ধ্বংসকারী পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চড়া মূল্যে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে, তা কার্যত জনগণেরই অর্থ। আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তার ভারও জনগণকে বইতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির নজির রয়েছে। সব মিলিয়ে যে সমস্যাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো দূর করে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন পন্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না করে বারবার লোকসানের বোঝা গ্রাহকের ওপর চাপানো কাম্য নয়।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির জন্য আমদানি করা কয়লায় পাঁচ শতাংশ ভ্যাট, ক্যাপাসিটি চার্জ বৃদ্ধি, অবচয় ব্যয় বৃদ্ধির মতো কিছু কারণ সামনে এনেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। মূল সমস্যা সমাধান না করে এগুলোকে খোঁড়া যুক্তি হিসেবে মনে করছেন অনেকে। এ ধরনের দায়সারা অবস্থান থেকে সরে এসে বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি তেল কিংবা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..