প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বারাকা পাওয়ারের বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেয়নি বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের জিরো কুপন বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি এ বন্ড ইস্যুর প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে কোম্পানিটির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের ১৫ নভেম্বর ডিএসইর মাধ্যমে কোম্পানিটি জানিয়েছিল তারা ১৫০ কোটি টাকা ফেস ভ্যালুর নন-কনভার্টিবল, নন-লিস্টেড, জিরো কুপন বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এ বন্ড ইস্যু করে ঋণ পরিশোধ করতে চেয়েছিল কোম্পানিটি। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাব নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

কোম্পানিটি ২০১১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৪০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ২৩ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬১ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৫১ এবং ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই, ২০২১-মার্চ, ২০২২) বারাকা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। যেখানে আগের হিসাববছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ১৮ পয়সা। আর তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ, ২০২২) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৮৪ পয়সা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৮ পয়সা। এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৮৯ পয়সায়।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২১ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে দুই টাকা ৯৬ পয়সা। ৩০ জুন, ২০২১ শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৯১ পয়সা। এছাড়া এই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৪৪ পয়সা।

এদিকে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বা ৪০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২২ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ২২ টাকা। দিনজুড়ে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৪টি শেয়ার মোট ৩৩৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৮১ লাখ টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়।