মত-বিশ্লেষণ

বাল্যবিয়ে শারীরিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে

গত ৪ জুন শিশু হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮ বেজে উঠল। ফোনের অন্য প্রান্তে কুমিল্লার বাসিন্দা লাবণ্য (প্রকৃত নাম নয়) নামে ১৬ বছরের এক কিশোরী মরিয়া হয়ে হেল্পলাইন কর্মীদের কাছে আসন্ন বাল্যবিয়ে থেকে উদ্ধার করার অনুরোধ জানাচ্ছিল।

স্থানীয় গ্রামবাসী তার বিয়ে বন্ধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় সে সহযোগিতা চাইতে বাধ্য হয়েছিল বলে ভয়ার্ত কণ্ঠে কিশোরী হেল্পলাইনে জানাল।

শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিসেফ ১০৯৮ হেল্পলাইনটিকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

হেল্পলাইনে লাবণ্য যে তথ্য দিয়েছিল, তা যাচাই করার পরে ১০৯৮ টিম ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানায়। তিনি ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং তিনি বিয়ে বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে তাদের জানিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ইউএনও, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারা লাবণ্যের বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

লাবণ্যদের পাঁচ সদস্যের পরিবারে তার বাবা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি একজন মুদি দোকানি। কভিডের কারণে লকডাউনের সময় তার আয়-রোজগার কমে গিয়েছিল।

ভালো ফল নিয়ে লাবণ্য এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। বাল্যবিয়ে কীভাবে মেয়ের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, লাবণ্যের বাবা পরে বুঝতে পেরেছিলেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েই তিনি আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারতেন না, সেও তিনি অনুধাবন করতে সক্ষম হন।

ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত ২০১৯ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার জরিপের ফল অনুসারে, শিশু বিবাহ বাংলাদেশে এখনও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য যেখানে ২০-২৪ বয়সী নারীদের ৫১ দশমিক চার শতাংশই ১৮ বছরের এবং ১৫ দশমিক পাঁচ শতাংশের ১৫ বছর বয়সের আগেই বিয়ে হয়ে যায়। শিশুবিয়ের এ উচ্চহার বাংলাদেশের মেয়ে শিশুদের শিক্ষাগত এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত রেখেছে, যা তাদের ভবিষ্যতের বিকাশের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..