সুস্বাস্থ্য

বাসক

আমরা জানি, ভারতীয় উপমহাদেশের ভেষজ উদ্ভিদ বাসক। লোকালয়ের কাছেই বেশি দেখা যায় এ গাছ। ক্লিনাক্যানথাস পরিবারের গাছটি এক থেকে দুই মিটার উঁচু হয়। ঋতুভেদে প্রায় সব সময়ে গাছ সবুজ থাকে। ফল সুপারি আকৃতির, বীজে ভর্তি। তাজা কিংবা শুকনো পাতা দুই-ই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাসকের পাতায় ‘ভাসিসিন’ নামের ক্ষারীয় পদার্থ ও তেল থাকে। একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় বাসকের ভেষজগুণ প্রমাণিত হয়েছে। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি, বমি ভাব বা অস্বস্তি হয়, এমনকি বমিও হতে পারে।

 

আসুন দেখে নিই এ বনৌষধির উপকারিতা

এক. এক থেকে দুই চা-চামচ বাসক পাতার রস এক চা-চামচ বা তার অর্ধেক পরিমাণ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশিতে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

দুই. বাসক পাতার রস গোসলের আধ ঘণ্টা আগে মাথায় কয়েকদিন মাখলে উকুন মরে যায়। আমবাতও যে কোনো ধরনের ফোঁড়ায় প্রাথমিক অবস্থায় পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ফোলা ও ব্যথা দুইই কমে যায়।

তিন. বুকে জমা কফ ও তার জন্য শ্বাসকষ্ট বা কাশি হলে এক থেকে দুই চা-চামচ পাতার রস এক চা-চামচ মধুসহ খেলে কফ গলে সহজেই বেরিয়ে আসে।

চার. প্রস াবে জ্বালা-যন্ত্রণা হলে বাসকের ফুল বেটে দুই থেকে তিন চা-চামচ মিছরির সঙ্গে শরবত করে খেলে ওই রোগের উপশম হয়।

পাঁচ. জ্বর হলে কিংবা অল্প জ্বর থাকলে পাঁচ থেকে ১০ গ্রাম বাসকের মূল ভালোভাবে ধুয়ে ছেঁচে ১০০ মিলিলিটার পানিতে ফোটান। ২৫ মিলিলিটার থাকতেই নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে দিনে দুইবার করে খেলে জ্বর চলে যাবে।

ছয়. অ্যালার্জিতে বেশ উপকারী বাসক। সে ক্ষেত্রে বাসকের ১০-১২টি কচিপাতা এক টুকরো হলুদের সঙ্গে বেটে অ্যালার্জি-দাদ-চুলকানিতে লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে তা সেরে যায়।

সাত. জন্ডিস রোগে বাসকের পাতা বা ফুলের এক থেকে দুই চা-চামচ রস এক চা-চামচ মধু কিংবা চিনিসহ প্রতিদিন একবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আট. পাইরিয়া বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে ১৫ থেকে ২০টি বাসক পাতা ছেঁচে দুই কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে হালকা গরম থাকাবস্থায় কুলকুচি করুন।

নয়. ঘামের কটুগন্ধ কমাতেও এ পাতার রস কাজে আসতে পারে। নিয়মিত ওই রস গায়ে মাখান, দুর্গন্ধ দূর হবে।

দশ. বাসক পাতায় এমন কিছু ক্ষারীয় পদার্থ আছে যার প্রভাবে ছত্রাক জš§াতে পারে না, পোকামাকড়ও ধরে না। তাই ফল প্যাকিং ও সংরক্ষণে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

সর্বশেষ..