শেষ পাতা

বাস বন্ধ হচ্ছে আগামীকাল

ট্রেন-লঞ্চ-বিমান চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস আতঙ্কে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্যে ট্রেন, নৌযান ও বিমান চলাচল গতকাল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি দুই ফেরিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর বাস চলাচল বন্ধ হবে আগামীকাল।

গতকাল সন্ধ্যায় সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আর আন্তঃনগর বাস বন্ধ হবে ২৬ মার্চ থেকে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল গতকাল দুপুর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। আর গতকাল মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান চলাচল।

গতকাল সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভিডিওবার্তায় গণপরিবহন বন্ধের কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ, যাত্রীসাধারণ, গাড়ির মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সারা দেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি ও পচনশীল পণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দেশের সব রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এ ঘোষণা দেন। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, যেসব রেল বিভিন্ন বেজ স্টেশন থেকে ঢাকায় এসেছে, সেগুলো আবার ফিরে যাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে তেল, খাদ্যসহ জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য সীমিত আকারে ট্রেন চলবে।

এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে রেলওয়ের সব লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গতকাল থেকে এসব ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়। আর আগামীকাল থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে দেশের সব রুটে গতকাল মঙ্গলবার থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর খান।

বিআইডব্লিউটিএ জানায়, করোনার বিস্তার রোধে সারা দেশে আজ থেকে যাত্রীবাহী নৌ-চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যবাহী নৌ-চলাচল চালু থাকবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিকাল থেকে দেশের নদীবন্দরে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে।

দেশের অন্যতম প্রধান দুই ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুপুরের পর থেকে মুন্সীগঞ্জে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে এবং মানিকগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম রুট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি সেক্টরের ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান দুপুরে জানান, ‘পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট মঙ্গলবার বিকাল নাগাদ লকডাউন হয়ে যাবে। তবে এখনও পাটুরিয়া ঘাটে ১৫০টির মতো দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস রয়েছে। এগুলো পার হলেই লকডাউন।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..