দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বাস রুট রেশনালাইজেশন ১০০ কোটি টাকা চায় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুটের পরিধি বাড়িয়ে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে ঘাটারচর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাস চালু করার ঘোষণা ছিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশনের ১৫তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র বলেন, ‘বাস মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলাপ করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেব, যাতে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা যায়। এটি হলে যে বাসগুলো এ রুটে চলবে, সেগুলোর আধুনিকায়নের জন্য যে খরচ হবে, যে বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, সে বিনিয়োগ ওই অর্থ থেকে যেন তারা করতে পারে। স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদে মালিকেরা যাতে এ ঋণ পান, সে ব্যাপারটিও চিঠিতে থাকবে। সামগ্রিকভাবে এ বিষয়টা শেষ করতে পারলেই ঢাকাবাসীকে সুফল দিতে পারব।’

ঢাকার গণপরিবহনের মালিক দুই হাজারের বেশি। আর ঢাকা ও আশপাশে দুইশ’র বেশি পথে (রুট) বাস চলাচল করে। যাত্রী তোলার জন্য এক বাসের চালক অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। এর ফলে দুর্ঘটনা বাড়ে। এ ব্যবস্থা পরিবর্তনে ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনায় ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ চালু করার পরামর্শ দেয়া হয়। বিশেষ এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় বাস তুলে নেয়া এবং সহজ শর্তের ঋণে নতুন বাস নামানো। বাস চলবে পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির অধীনে। মালিকরা বিনিয়োগের হার অনুসারে লভ্যাংশ পাবেন।

মেয়র তাপস বলেন, ঘাটারচর থেকে শুধু মতিঝিল পর্যন্ত রুট নির্ধারণ করা হলে এটি ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। এজন্য রুট বাড়িয়ে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত করা হয়েছে। এ রুটে কোম্পানির মাধ্যমে বাস কীভাবে চলবে, কতগুলো বাস চলবে, কতগুলো প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত থাকবে, আয় কীভাবে বণ্টন করা হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নীতিমালা হবে।

 ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অংশীজনদের নিয়ে বসে নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করবে। আগামী সভার আগেই খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করলে কোম্পানি গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে। এ রুটে ১ এপ্রিল থেকে বাস চলার কথা।

এ রুট চালুর ক্ষেত্রে যাত্রীছাউনি, বাসস্টপেজসহ অবকাঠামো নির্মাণে কিছু জমির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, অবকাঠামোগুলোর কাজ যাতে শেষ করা যায়, সেজন্য আগামী সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে অলোচনা করা হবে। বর্তমানে এ রুটে যেসব বাস চলাচল করে, তার তথ্যগত কিছু ভুল আছে। কারণ দীর্ঘদিন এ তথ্যগুলো হালনাগাদ করা হয়নি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিআরটিএ এ তথ্যগুলো হালনাগাদ করবে। ঢাকার কোন রুটে কোন বাস চলছে, কতগুলো বাস চলছে, এ-সংক্রান্ত তথ্য আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিআরটিএ হালনাগাদ করবে।

ঢাকার আশপাশে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল করার জন্য ১০টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এর মধ্যে কয়েকটি জায়গা তারা পরিদর্শন করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শনে তারা বাটুলিয়ায় একটি জায়গা নির্ধারণ করেছেন। সেখানে আন্তঃজেলা একটি টার্মিনাল হবে। মূলত উত্তরাঞ্চলের যে বাসগুলো আছে, সেখানে এসব বাস থাকবে। উত্তরাঞ্চলের বাসের জন্য সাভারের হেয়ায়েতপুরে দুটি জায়গা দেখে একটি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বাসের জন্য কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে একটি এবং কাঁচপুর এলাকায় আরেকটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই চার জায়গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপন করলে ঢাকা শহরের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনালগুলোকে সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাকি চারটি টার্মিনাল দূরপাল্লার বাসের জন্য নির্ধারিত থাকবে। প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী বরাবর দেয়া হবে।

সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান এহছানে এলাহী, রাজউক চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলমসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..