বিশ্ব সংবাদ

বাড়ছেই বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ছে অনেক পশুপাখি। প্রাণী বিলুপ্তির প্রথম কারণ বিভিন্ন প্রাণীর শিং, হাতির দাঁত ও বিদেশি পশুপাখি কেনাবেচা করা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ কেনাবেচার হার আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। খবর: বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ওপর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। সাম্প্রতিক এ গবেষণার সহ-গবেষক ও ইংল্যান্ডের শেফফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড অ্যাডওয়ার্ডস বলেন, বিচিত্র প্রজাতির যেসব প্রাণী কিংবা প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা হচ্ছে, এটা খুবই বিস্ময়কর। আর এতে করে যে ঝুঁকি বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। সায়েন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এই গবেষণায় পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, উভচর ও সরীসৃপ কেনাবেচার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা ও আমাজন রেইনফরেস্টের মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াকে।
গবেষণায় তিন হাজারেরও বেশি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে কেনাবেচা হতে পারে। বিশেষত প্রাণীর শিং বা পালকওয়ালা প্রাণীগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রেট শেফার্স বলেন, একটি প্রজাতির প্রাণী কেনাবেচা শুরু হলে সেই প্রাণীর সমগোত্রীয় বা প্রাণীগুলোর বিবর্তনীয় পরবর্তী প্রজাতিগুলোও কেনাবেচার আওতায় আসার আশঙ্কা থাকে, সাধারণত এমন ধারণা থাকলেও ভবিষ্যতে যে কোনো প্রজাতির প্রাণীই কেনাবেচা হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বন্যপ্রাণী কেনাবেচা রোধে প্রতিক্রিয়াশীল কৌশলগুলোর চেয়ে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, বন্যপ্রাণীর প্রজাতিগুলোর ওয়াচ লিস্ট, অবৈধ আমদানি নজরদারি বৃদ্ধি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা ও স্থানীয় লোকদের প্রাণী সংরক্ষণের কাজে অন্তর্ভুক্ত করা খুবই জরুরি।
অধ্যাপক অ্যাডওয়ার্ডস বলেন, বন্য প্রাণী ও সেগুলোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই রোধ করা না গেলে সত্যিই বিপদ আছে। আমরা কেনাবেচা হওয়া বহু প্রজাতি হারাব। তিনি আরও বলেন, পশুজাত অবৈধ পণ্য না কিনে এসব রোধে সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
গবেষকরা কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জার্ড স্পেসিস অব ওয়াইল্ড ফ্লোরা অ্যান্ড ফোনা এবং ইউনিয়ন ফর কনজার্ভেশন অব ন্যাচার থেকে ৩০ হাজার পাখি, স্তন্যপায়ী, উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুসারে পাঁচ হাজার ৫৭৯টি প্রাণী, যেগুলোর ১৮ শতাংশই মেরুদণ্ডী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কেনাবেচা হচ্ছে। এছাড়া আরও তিন হাজার ১৯৬টি প্রজাতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই বাণিজ্যের প্রভাব পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ বলে গবেষকরা মনে করেন।

সর্বশেষ..