আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বাড়ছেই বড় পতনে লেনদেন ফের ৪০০ কোটির ঘরে

পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে বড় পতন থামছেই না। ঘনঘন বড় পতনে কমছে সূচকসহ সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। এতে প্রতিনিয়তই কমছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। বাজার ভালো হওয়ার বিষয়ে খাতসংশ্লিষ্টরা যে আশার বাণী শোনাচ্ছেন, বাস্তবে তার প্রতিফলন লক্ষ করা যাচ্ছে না। যে কারণে পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে যারা নতুন বিনিয়োগকারী, তারা এই পতনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।
আগের সপ্তাহের পতনের জের ধরে গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন প্রত্যক্ষ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমতে দেখা গেছে ৯২ পয়েন্ট বা প্রায় দুই শতাংশ। লেনদেন শেষে গতকাল সূচকের অবস্থান হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে।
এদিকে সূচকের পাশাপাশি দর হ্রাস পেয়েছে লেনদেন হওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৪৩টি কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হতে দেখা যায়। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। অন্যদিকে লেনদেন হওয়া সিংহভাগ শেয়ার ও ইউনিটদর হ্রাস পাওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে বাজার মূলধন। একদিনের ব্যবধানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং ফান্ডের বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। গতকাল দিন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকায়। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল চার লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে বড় পতনে ডিএসইতে লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয় মোট ৪৬৭ কোটি টাকার শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এর মধ্যে লেনদেন আবারও সাত মাস আগের অবস্থানে চলে গেছে। এর আগে গত বছরের ২৯ জুলাই গতকালের চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল। সেদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এদিকে বাজারের এই বড় পতনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। তারা ঘুরেফিরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দিকে আঙুল তুলছেন। তাদের অভিমত, বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। যে কারণে বাজার পতনের খোলস ছেড়ে বের হতে পারছে না। পাশাপাশি পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়াও একটি বড় কারণ। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন কর্মকর্তা বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিসহ অন্যান্য কোম্পানি থেকে বিদেশিদের বিনিয়োগ তুলে নেয়া বাজার পতনের কারণ। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে বাজারের করুণ চিত্র বদলাচ্ছে না।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন এখনও বাজার নিয়ে দুচিন্তার কিছু নেই। এছাড়া বিদেশিদেরও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার আগ্রহ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশিরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে চান। শর্ট টাইম নয়, তারা এটা করতে চান লং টাইম নিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি, সেখানে দেশের পুঁজিবাজার বড় ভ‚মিকা রাখতে পারে বলে মনে করি।’
এদিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া পুঁজিবাজারে বড় পতন কাম্য নয়। কেন এমন হচ্ছে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখা দরকার। আমার জানা মতে, বিএসইসি কর্তৃপক্ষ এখন বাজার নিয়ে অনেক কাজ করছেন। তারা নিশ্চয় এই দিকটাতে আরও বেশি নজর দেবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..