সম্পাদকীয়

বাড়ছে নদীর পানি বন্যা বিষয়ে সতর্কতা জরুরি

সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভাঙন ও ব্যাপক ক্ষতি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, কেনাকাটায় দুর্নীতি, পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি প্রভৃতি খবরে চাপা পড়ে গেছে বন্যার খবর। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস ছিল চলতি সপ্তাহের শেষদিকে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিতে পারে। ৬০ বছরের মধ্যে এবারই অক্টোবর মাসে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উজানে ভারতীয় অংশে গঙ্গা নদী থেকে আসা পানির কারণে এ বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় অংশে ফারাক্কা বাঁধের বেশিরভাগ গেট খুলে দেওয়ায় বন্যার তীব্রতা আরও বেড়েছে। এই বন্যা আট থেকে ১০ দিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় রয়েছে পেকে ওঠা আমন ধান ও শীতের আগাম সবজি। বন্যায় এসব অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি ও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ছাড়া সব নদীর পানি বাড়ছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে উদ্বেগ আরও বাড়াবে।
খবরে বলা হয়. ভারী বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে এরই মধ্যে ছয়টি পয়েন্টে নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে গত জুনে এক দফা বন্যায় দেশের ২৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্যাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হলেও আমাদের দেশে এটিকে মনুষ্য-সৃষ্ট দুর্যোগ বলা যায়। যেমন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস আমলে নেওয়া হয় না, নদী দখল নিবৃত্ত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেই, ভাঙন ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই।
অভিন্ন নদনদীর পানি নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ সমাধানেও আসতে পারেনি। আমাদের বন্যা ও ভাঙনে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। সেচ মৌসুমে এ নদীগুলোয় পানি থাকে না। আবার বর্ষাকালে উজানের পানির চাপে দুই তীর প্লাবিত হয়।
আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টনে ভারতের সঙ্গে ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির কী সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ, সে প্রশ্নও উঠতে পারে। ২০২৬ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এখন দর কষাকষি করে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন করতে হবে দুই দেশকে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এনইসির সভায় বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা পাস হয়। পরিকল্পনায় বন্যা, নদীভাঙন, শাসন, ব্যবস্থাপনা ও নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। তখন বলা হয়েছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে বাড়তি দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু বর্তমানে বন্যায় ক্ষতি বেড়েই চলেছে। তাই বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন্যাদুর্গতদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য, পানীয় জল ও ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে।

সর্বশেষ..