প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাড়ছে সিমেন্টের চাহিদা কমছে মুনাফা

নিয়াজ মাহমুদ: গত ৯ বছরে সিমেন্ট খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক তিন শতাংশ। এখন দেশে মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে ১২৪ কেজি। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই প্রতিনিয়ত বাড়ছে সিমেন্টের ব্যবহার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। তবুও মুনাফায় পিছিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট কোম্পানিগুলো।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দিন দিন সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। গত ৯ বছরে সিমেন্ট খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক তিন শতাংশ। এখন দেশে মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে ১২৪ কেজি। মাথাপিছু ব্যবহার ৬০০ কেজি হওয়ার পর ফের রি-কনস্ট্রাকশনে আসে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশে আগামীতে সিমেন্ট ব্যবসা আরও চারগুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ’১৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ খাতে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির মধ্যে মাত্র দুটির মুনাফা বেড়েছে। আর চারটি কোম্পানিরই মুনাফা কমেছে। বাকি একটির মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে।

আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা কমেছে  কনফিডেন্স, এমআই ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডের। অন্যদিকে লোকসান বেড়েছে আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের। দুটি বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের মুনাফা কিছুটা বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে লাফার্জ সুরমার প্রান্তিক আয়। এদিকে দেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে একমাত্র মুনাফা বেড়েছে মেঘনা সিমেন্টের।

কোম্পানিগুলো বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ’১৬) বর্ষা মৌসুমে অবকাঠামো উন্নয়নের গতি হ্রাসে সিমেন্ট বিক্রি কমার পাশাপাশি দেশের বাজারে দাম কমে যাওয়া ও অনেক ক্ষেত্রে বিক্রি বাবদ ব্যয় বাড়ায় সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমেছে। সদ্যবিদায়ী ও চলতি প্রান্তিকে বিক্রি কিছুটা বাড়বে বলে আশা কোম্পানিগুলোর।

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে খারাপ করেছে আরামিট সিমেন্ট। এ সময় তাদের মোট বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়লেও লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। মূলত সিমেন্টের দাম কমে যাওয়া ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান বেড়েছে কোম্পানিটির।

অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, এ সময় আরামিট সিমেন্টের মোট রেভিনিউ হয়েছে ২৮ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, আগের বছরের একই সময় যা ছিল ১৫ কোটি সাত লাখ ৬১ হাজার টাকা। প্রথম প্রান্তিকে এর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা; আগের বছর যা ছিল ২৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। চলতি বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৭ পয়সা, আগের বছর যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৩ পয়সা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ডিলারদের কাছ থেকে অনেক বকেয়া অর্থ তুলতে না পারায় এমনটি হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুনাফা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে এমআই সিমেন্টের (ক্রাউন সিমেন্ট) কোম্পানি সচিব মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সিমেন্টের বাজার অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো দাম কমিয়েছে। ফলে পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় মুনাফা কমেছে। এর বাইরে বর্ষা মৌসুমে সিমেন্ট বিক্রি কমে যাওয়া এবং অন্য খরচ আগের মতোই থাকায় মুনাফায় প্রভাব পড়েছে।’

এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শাহরিয়ার ইশতিয়াক হালিম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সিমেন্ট খাতের সম্ভাবনা প্রচুর। তবে কাঁচামাল আমদানি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভিআইআরএম ব্যবহার এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সিমেন্ট খাতের উন্নয়নে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, রফতানি বাধা দূর এবং বৈদেশিক ঋণ সহজলভ্য করতে হবে।’

বাংলাদেশে আগামীতে সিমেন্ট ব্যবসা আরও চারগুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাসুদ খান। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির সঙ্গে সিমেন্টের চাহিদা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিমেন্টের চাহিদা আরও বাড়বে।’

বাংলাদেশে সিমেন্টের যে ব্যবহার, তার ৬০ শতাংশই ব্যবহার হয় গ্রাম পর্যায়ে ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণ কাজে। বর্ষা মৌসুমে নির্মাণ কাজ কমে যায়, তাই এ প্রান্তিকে অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফা কিছুটা কমেছে।

এ খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার অনেক কম। দেশের অর্থনীতির সব সূচক এগিয়ে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে সিমেন্ট ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে।

এছাড়াও দেশের পাকা রাস্তাগুলো বিটুমিনের পরিবর্তে আরসিসি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। সরকার এটা চলমান রাখলে সিমেন্টের ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে। ফলে এ খাতের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে বলে মনে করেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে খারাপ করেছে আরামিট সিমেন্ট। এ সময় কোম্পানিটির মোট বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়লেও লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিগুণেরও বেশি।

কোম্পানির অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, এ সময় আরামিট সিমেন্টের মোট রেভিনিউ হয়েছে ২৮ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময় যা ছিল ১৫ কোটি সাত লাখ ৬১ হাজার টাকা। প্রথম প্রান্তিকে এর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা; আগের বছর যা ছিল ২৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। চলতি বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৭ পয়সা, আগের বছর যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৩ পয়সা।

কনফিডেন্স সিমেন্টের প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৩৭ পয়সা। এ সময় কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৭৫ টাকা ১৪ পয়সা। যা এর আগের বছর একই সময় ছিল ৬৪ টাকা ৪২ পয়সা।

এ সময় হাইডেলবার্গ সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে চার টাকা ৪৭ পয়সা। গত বছরের একই সময় যা ছিল চার টাকা শূন্য এক পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির এনএভি হয়েছে ৯৬ টাকা শূন্য চার পয়সা। গত বছরের একই সময় যা ছিল ৯৬ টাকা ৪৪ পয়সা।

বছরের প্রথম তিন মাসে মেঘনা সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১১ পয়সা। এ সময় এমআই সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে ৮২ পয়সা। আগের বছর একই সময় কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৯৮ পয়সা।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেড প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইপিএস হয়েছে ৫৫ পয়সা। গত বছরের একই সময় যা ছিল ৮১ পয়সা। এ সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য হয়েছে ৪০ টাকা ৯৪ পয়সা। যা এর আগের বছর ছিল ২৮ টাকা ২৭ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিকে বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্টে ইপিএস অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ন্যায় এ বছরের প্রথম তিন মাসে ইপিএস হয়েছে ৩২ পয়সা।