আজকের পত্রিকা দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শেষ পাতা

বাড়তি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলো আনোয়ার খান মডার্ন

‌নিজস্ব প্রতিবেদক: এক করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার বিল হিসেবে দেড় লাখ টাকা আদায় করার একদিন পর ৩৪ হাজার টাকা রেখে বাকিটা ফেরত দিয়েছে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাইফুর রহমান নামের ওই রোগীর ছোট ভাই আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পেয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, বাকি টাকা বিভিন্ন বিল দেখিয়ে কেটে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আপনারা পাশে ছিলেন বলে অন্তত এই টাকাটা পেলাম। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ মার্চ আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী সাইফুর। সেরে ওঠার পর ২ জুন ছাড়পত্র দেওয়ার সময় ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয় তাকে।

অথচ আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে সরকার ‘কভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল ঘোষণা করেছে এবং চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে জেনেই সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মী সাইফুর।

সুস্থ হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকালে চিকিৎসকের ছাড়পত্র মিললেও বিলের জন্য হাসপাতাল সাইফুরকে ছাড়ছিল না। ধারদেনা করে বহু কষ্টে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করেন সাইফুরের ছোট ভাই আরিফুর। তাই দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তারা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। পরে প্রশাসনের চাপে টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান বলেন, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সুতরাং সেখানে ভর্তি কভিড-১৯ রোগীর খরচ সরকারই বহন করবে। হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ রোগীর কাছ থেকে টাকা নিতে পারে না। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল এখন সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে চাইছে। তারা চাইলে মিনিস্ট্রিও হয়ত ছেড়ে দেবে। কিন্তু ৩১ মে পর্যন্ত কোনো বিল নেওয়া চলবে না। বিল ধরলে ১ জুন থেকে বিল নেবে। এই কয়দিন তারা সরকারি হিসাবে চলেছে।

আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এহতেশামুল হক বলেন, মে মাসেই সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। সাইফুরের ক্ষেত্রে কীভাবে ছাড় দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা তারা করবেন। সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, করোনা আক্রান্ত রোগীর ৩১ মে পর্যন্ত চিকিৎসার কোনো টাকা নেব না। যদি কারও নেওয়া হয়ে থাকে, তা ফেরত দেওয়া হবে।

টাকা ফেরত দেওয়া হবে জানতে পেরে সাইফুরের ভাই আরিফুর বুধবার দুপুরে হাসপাতালে যান এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পান। সাইফুর বলেছিলেন, ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত তার রক্তের দুটি পরীক্ষা এবং তিনটি এক্সরে হয়েছে মডার্ন হাসপাতালে। আর হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করেছে শুধু নাপা ট্যাবলেট। অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন তার হয়নি।

তাকে প্রথমে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকার যে বিল দেওয়া হয়েছিল তাতে ২ জুন পর্যন্ত চিকিৎসকের ফি বাবদ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, হাসপাতালের বিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ টাকা, পরীক্ষার বিল ১৯ হাজার ৪৭৫ টাকা, ওষুধের বিল ৫ হাজার টাকা এবং ১২ হাজার ৯০৩ টাকা সার্ভিস চার্জ দেখানো হয়েছিল।

আর বুধবার দুই দিনের খরচ কেটে রেখে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সেই বিলে বেড ভাড়া ১২ হাজার, খাবার বিল ১ হাজার ২৬০ টাকা, কোভিড প্রোটেকশন বিল ৪০০ টাকা, পরীক্ষার ফি ১ হাজার ৬৫০ টাকা, ওষুধ ১ হাজার ৬০৪ টাকা, বিশেষ সেবা ৫ হাজার টাকা, নার্সিং ফি ৮০০ টাকা, পালস অক্সিমিটার ফি ৪ হাজার ৮০০ টাকা, ডিউটি ডক্টরের খরচ ১ হাজার টাকা, পরামর্শক ফি ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৩ হাজার ৯১ টাকা দেখানো হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..