প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বায়োগ্যাসে আলোকিত রেলবস্তির ৭৫ পরিবার

 

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, রংপুর: রংপুর সদরের চন্দনপাট ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকার রেলবস্তির প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় রাত হলেই নেমে আসত অন্ধকার। রাতের অন্ধকারে কুপির মিটিমিটি আলোয় চলতো যাবতীয় কাজ। ছেলেমেয়েরা কুপির স্বল্প আলোয় করত পড়ালেখা। সেই বস্তির ৭৫ পরিবার বায়োগ্যাসের আলোয় আলোকিত হয়েছে গত শনিবার।

বস্তির ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায় উৎসাহ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকার উদ্যোগ নেয় স্বল্প পরিসরে বায়োগ্যাসে বিদ্যুৎ সর্বরাহের। সাঁঝের পাঠে আলোক উৎসব শ্লোগানকে সামনে রেখে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের পুটিমারী রেলবস্তির ৭৫ পরিবার আলোকিত হলো বায়োগ্যাসের আলোয়। যারা কখনও ভাবতে পারেননি ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলবে, আজ তারাই আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।

পুটিমারী শ্যামপুর রেলবস্তিতে নির্মিত স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট (ইউপিজিপি) এবং দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি-২) যৌথ অর্থায়নে চার লাখ টাকা বরাদ্দে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ।

জানা গেছে, শ্যামপুর রেলবস্তি হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎবিহীন এলাকা হওয়ায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি কল্পে ৭৫টি পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও একটি করে গরু প্রদান করা হয়। প্রজেক্টের আওতায় ইউপিজিপির দেওয়া ২ লাখ ৬৪ হাজার এবং (এলজিএসপি-২) এর ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দে বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রকল্প থেকে দেওয়া গরু এবং সুবিধাভোগীদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগির গোবর-বিষ্ঠাসহ অন্যান্য পচনশীল পদার্থ দিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে। সেই সঙ্গে পাওয়া যাবে বায়োসার বা বায়োগ্যাস রেসিডিউ, যা জমিতে ব্যবহারের জন্য সুবিধাভোগীদের মাঝেই বণ্টন করা হবে।

রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বলেন, প্রত্যন্ত একটি এলাকা শ্যামপুর রেলবস্তি। এখানকার হতদরিদ্র মানুষদের বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের কোনো সামর্থ্য নেই। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রজেক্টের আওতায় বস্তির ৭৫টি পরিবারে বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে তাদের জীবনযাত্রার মান অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। তিনি পর্যায়ক্রমে অত্র এলাকার প্রতিটি বাড়িতে আলো পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।