সম্পাদকীয়

বিআইএফসির অনিয়ম উদ্ঘাটনে পদক্ষেপ নিন

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৬৪০ কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ অভিযোগে বুধবার তাকে ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম ভেঙে আবদুল মান্নানের নিজস্ব ও আত্মীয়স্বজনের প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ঋণ বের করে নেয়া হয়েছে।

গতকালই আবদুল মান্নান একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পি কে হালদারের হাতে বিআইএফসিকে তুলে দিয়েছে। তাই সব দায়দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণ বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে হবে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে দুদক মামলাও করে। ওই সময়ই জানা গেছে, দুদক অনুসন্ধানকালে দেখেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে বরাদ্দ অতিরিক্ত টাকার ইস্যু করা চেকের অধিকাংশ টাকাই মেজর (অব.) মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গেছে। দুদক বলেছে, এই জালিয়াতির প্রধান সুবিধাভোগী মেজর মান্নান এবং তিনি নিজেই এ অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিআইএফসি থেকে বিপুল পরিমাণের ঋণ অনিয়মের ঘটনায় আবদুল মান্নানের সম্পৃক্ততা পায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে ২০১৫ সালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দুদক ও সিআইডিকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়, মান্নান একাই ধ্বংস করেছেন একটি প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন, বিআইএফসির বার্ষিক প্রতিবেদন, স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ফলে দায় এড়াতে পারে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ আছে, সরকারি নানা মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি সবকিছুর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তবে মাঝে মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ শুরু হলে কিছু পরেই আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এটি প্রমাণ করেছে রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে শক্তিধর হলে বড় অপরাধ করেও ছাড় পাওয়া যায়।

ঋণ জালিয়াতির কারণে ২০১৬ সালে বিআইএফসির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০১৭ সালেই প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন করতে  চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন সে প্রক্রিয়া আটকে যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের মনে আছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আবদুল মান্নানের প্রার্থিতায় আপত্তি করেনি ব্যাংক প্রতিনিধি। রিটার্নি কর্মকর্তার কাছে আপত্তি ওঠেনি বলে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। কে কাকে কীভাবে সহায়তা করেছে, তা খোঁজার পাশাপাশি আমানতকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে উপায় খুঁজতে হবে। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণের সর্বশেষ তথ্য তাৎক্ষণিক হালনাগাদ হয়। ফলে সব ঋণ তথ্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থার গোচরীভূত। তাছাড়া অভিযোগ থাকলে সেখানে বিশেষ মনোযোগও থাকে। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। ঘটনার পরম্পরায় প্রমাণিত হয় রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে ঋণ নিয়ে এমন কেলেঙ্কারি ঘটত না। আমরা মনে করি, সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া এমন কেলেঙ্কারি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..