দিনের খবর শেষ পাতা

বিআইডব্লিউটিসিতে শূন্য পদ ১৮৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: কম লোকবল নিয়ে চলছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) শূন্য পদের সংখ্যা এক হাজার ৮৭৭টি।

গতকাল সংসদ ভবনে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এসব শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংস্থাটিতে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির চার হাজার ৭৮০টি পদের বিপরীতে দুই হাজার ৯০৩ জন কর্মরত রয়েছেন। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, সংস্থাটিতে প্রথম শ্রেণির ১৭০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৩৮টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৪০ জন এবং শূন্য ১৯৮টি।

তৃতীয় শ্রেণির দুই হাজার ২৯২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন এক হাজার ৩৭৬ জন, খালি ৯১৬টি। চতুর্থ শ্রেণির এক হাজার ৮৮০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন এক হাজার ১৫৬ জন এবং শূন্য ৭২৪টি পদ। বৈঠকে সংস্থাটির গত পাঁচ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে।

এতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০ কোটি ৩৭ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

তবে কমিটি এ হিসাবকে ‘অসম্পূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে পরবর্তী বৈঠকে আয়-ব্যয়ের বার্ষিক বিবরণী খাতভিত্তিক পৃথকভাবে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিআইডব্লিইউটিসি আয়-ব্যয়ের যে হিসাব দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে, কোন নৌযান কত দামে কেনা হয়েছে, তা তাদের প্রতিবেদন থেকে জানার সুযোগ নেই। এজন্য আমরা পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছি।’

বিআইডব্লিউটিসির পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলের জন্য ?দুটো জাহাজ কিনছে। কিন্তু এটা কতটা কার্যকর হবে, তা চিন্তা করা হয়নি। পদ্মা ব্রিজ হওয়ার পরে খুলনায় যেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময়ও লাগবে না। সেখানে মানুষ নৌপথে ১৪-১৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে যাবে কি না, সেটা ভাবা দরকার ছিল।’

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে কমিটিতে পাঠানো ‘মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২১’ রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি পাসের সুপারিশ করে সংসদে রিপোর্ট দেয়া হবে।

বৈঠকে নৌপথে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপদ ও দ্রুততম সময়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া নদীতে পলি জমার কারণ অনুসন্ধানে দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘স্টাডি’ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, মাহফুজুর রহমান ও মো. আছলাম হোসেন সওদাগর অংশ নেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..