সম্পাদকীয়

বিআরটিসির আমূল সংস্কার দরকার

দেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় অরাজকতা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। বেসরকারি মালিক-চালক এবং শ্রমিকদের হাতে একপ্রকার জিম্মি পরিবহন খাত। হাত রয়েছে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক মহলেরও। এ থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির ভূমিকা রাখা উচিত ছিল। কিন্তু বিশাল অবকাঠামো ও পরিবহন নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। উল্টো অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে খাতটি। এর থেকে উত্তরণে বিআরটিসিকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই।

‘শেয়ার বিক্রি ও ইজারার বিধান রেখে বিআরটিসি আইন পাস’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, জনগণের কাছে ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি ও বিআরটিসি বাস বা ট্রাক ইজারায় পরিচালনার বিধান রেখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন (বিআরটিসি), ২০২০ পাস হয়েছে। বিলে সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এক বা একাধিক কোম্পানি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু উদ্যোগে কথা বলা হয়েছে। বিআরটিসির সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে যদি বিলটি পাস করা হয়, তবে তা প্রশংসার যোগ্য। যদিও অতীত বিবেচনায় এতে সেবার মান কতটা বাড়বে তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

দেশের অনিয়ন্ত্রিত গণপরিবহন খাতে তুচ্ছ ঘটনায় যাত্রীদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের নজির অনেক। এমনকি অপরাধ করে শাস্তি পেলে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন শুরু করেন চালক-মালিক-শ্রমিকরা। ফলে তাদের কাছে একপ্রকার জিম্মি প্রশাসন এবং যাত্রীরা। এ অবস্থায় বিআরটিসির যানবাহনে স্বস্তি ফেরার কথা থাকলেও পরিস্থিতি উল্টো। রাজধানীতে বিআরটিসির অনেক যাত্রী থাকলেও সেবার মান নিয়ে অভিযোগ অনেক, বছর বছর লোকসানও গুনছে। পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও এভাবে লোকসান করা বোধগম্য নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতিকে এজন্য দায়ী করা হয়, যার অবসান জরুরি।

খবরে  বলা হয়েছে, ৪২৮টি রুট ও পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটের জন্য বিআরটিসির এক হাজার ৮৩০টি বাস রয়েছে। নতুন বিল অনুযায়ী, করপোরেশনের জন্য এক হাজার কোটি টাকা মূলধনের ৫১ শতাংশ সরকারের মালিকানায় আর অবশিষ্ট শেয়ার জনগণের কাছে থাকবে। ইজারায় পরিচালনার বিধানও রয়েছে। তবে অনিয়ম-দুর্নীতি দূরীকরণ বা যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু নেই। ফলে পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেবার মান বাড়াতে হলে সংশ্লিষ্ট যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বেসরকারি খাতের দৌরাত্ম্য ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। যাত্রীসেবার নি¤œমানের কারণ খতিয়ে দেখে তা সমাধান করা জরুরি। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে বিআরটিসি থেকে প্রকৃত সেবা মিলবে বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..