বিআরটিসির বাসের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করুন

‘ভাঙারি হিসেবে বিক্রি হলো বিআরটিসির ভলভো বাস’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে শেয়ার বিজে, সেটি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবে। এমন নয় যে, ‘ভলভো বাস’ ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা যাবে না। আয়ুষ্কাল শেষ হলে সর্বাপেক্ষা টেকসই পণ্যও বর্জ্যে পরিণত হয়। কিন্তু ভলভো বাসের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।

শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫২ কোটি টাকার বাস বিক্রি হয়েছে ৫০ লাখ টাকারও কমে। ২০০৪ সালে কেনা বাসগুলোর আয়ুষ্কাল ছিল ১৫ বছর। কিন্তু কেনার চার বছর পেরোনোর পরই বিকল হতে শুরু করে বাসগুলো। ৫০টি বাসের মধ্যে সচল একটি, যা স্টাফ বাস হিসেবে চলছে।

সাধারণত একটি বড় বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাসনির্মাতা কোম্পানিগুলো তা ১৫ বছর পর্যন্ত ধরে। কিন্তু এ আয়ুষ্কাল পূর্ণ করতে পারেনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কোনো বাসই। কেনার দু-চার বছরের মধ্যেই অচল হয়ে ডিপোয় স্থান করে নেয় সংস্থাটির বেশিরভাগ বাস।

বেসরকারি মালিকানায় পরিচালিত গণপরিবহন টেকসই ও লাভজনক। বেসরকারি পরিবহন যেখানে ১০-১৫ বছর রাস্তায় দাবড়ে চলে, সেখানে বিআরটিসির বাস রাস্তায় নামার দু-তিন বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়ে।

বলা হয়ে থাকে, গত দুই দশকে বিআরটিসিতে যেসব গণপরিবহন কেনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ভলভো দ্বিতল বাসই মানসম্পন্ন। সেই ভালো বাসই অল্প সময়ের মধ্যে লক্কড়ঝক্কড় অবস্থায় ডিপোতে ঠাঁই নিয়েছে। ঠিকমতো মেরামত করা হলে আরও ২৫-৩০ বছর ভলভো বাসগুলো সার্ভিস দিতে পারত। এখন ‘অত্যাধুনিক’ ভলভো বাস বিক্রি হলো ভাঙারি হিসেবে।

অভিযোগ রয়েছে, নি¤œমানের বাস সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ না করা, চালক-শ্রমিকদের অদক্ষতা ও অবহেলা এবং কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় আয়ুষ্কাল পেরোনোর আগেই বিআরটিসির বাসগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উম্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাস কিনলে দর-কষাকষির সুযোগ থাকে, এখানে তা ছিল না। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, চীন, ভারতসহ আরও যেসব দেশ পরিবহন খাতে ঋণ দিয়েছে, শর্ত হিসেবে তাদের বাসই কিনতে হয়েছে। ভারত ও চীন থেকে কেনা বাসও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ ঋণদাতা দেশ বেশি দামে তাদের নিম্নমানের বাসই গছিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। এর সঙ্গে বাস রক্ষণাবেক্ষণকারীর দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতি যোগ হওয়ায় আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগেই বাসগুলো ভাঙারিতে পরিণত হয়। 

বেসরকারি খাতকে পথ দেখানো এবং তাদের দৌরাত্ম্য থেকে সেবাগ্রহীতাদের রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়েই বিআরটিসির পথ চলা। কিন্তু বিআরটিসি নিজেই খুঁড়িয়ে চলছে, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকছে। বিআরটিসির বাসে মুদ্রিত থাকে, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, ইহার যথাযথ যত্ন নিন।’ অবশ্যই যাত্রীরা যতœ নেবে, কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে কর্মকর্তাদেরই। বেশি দামে কেনা হবে আবার ক্রয়-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণও করা হবে না, এখানে নাগরিকদের সংশ্লেষ নেই। এ দায়িত্ব বিআরটিসিকেই নিতে হবে।

সর্বশেষ..