সম্পাদকীয়

বিএইচবিএফসির উদ্যোগ সফল হোক

খাদ্য ও বস্ত্রের পর মানুষের মৌলিক প্রয়োজন বাসস্থান। আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজন গৃহায়ন। গৃহায়ন হলো মানুষের বসবাসের জন্য সুবিধাদি সংবলিত বাসভূমি। আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী গ্রামে বসবাস করে। এর বেশিরভাগই গৃহায়ন সুবিধার বাইরে। নিজের বাড়ি হোক বা ভাড়া বাড়ি হোক, শহরের বাসিন্দারাই গৃহায়নের সুবিধা পেয়ে থাকেন। খুব কমসংখ্যক মানুষের গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহায়ন সুবিধাসংবলিত বাড়ি তৈরির সামর্থ্য রয়েছে। গৃহায়ন নিরাপদ বসবাসের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য কর্ম ও উপার্জনে ভূমিকা রাখে।
জনসংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় আবাসনের সংস্থান কঠিন হয়ে পড়ছে। আবাসিক সমস্যার সমাধানে কাজ করছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। গৃহায়ন খাতে অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে সংস্থাটি কয়েক যুগ ধরে এ দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দিলেও এ কথা অনস্বীকার্য যে, গৃহায়ন খাতে ঋণপ্রাপ্তির জন্য সাধারণ মানুষের আস্থা বিএইচবিএফসিতেই।
সম্প্রতি সংস্থাটি ঋণের সুদহার কমিয়েছে বিএইচবিএফসি। উপজেলা সদর, উপজেলা সদরের আশেপাশের এলাকা (পেরি আরবান) এবং উপজেলার যে কোনো সমৃদ্ধ এলাকায় (গ্রোথ সেন্টার) কৃষক আবাসন ঋণের সুদ এখন সাত শতাংশ। আগে তা ছিল আট শতাংশ। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের যে কোনো এলাকায় পল্লি আবাসন ঋণ, প্রবাসবন্ধু ঋণ, আবাসন উন্নয়ন ঋণ এবং আবাসন মেরামত ঋণের সুদের হার এখন আট শতাংশ। আগে এই হার ছিল আট দশমিক ৫০ শতাংশ। গত ১২ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। ১ জুলাইয়ের পর থেকে মঞ্জুর হওয়া ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন হারই কার্যকর হবে। বিএইচবিএফসির এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। সুদহার কমায় গৃহায়নে খরচ কমবে সীমিত ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর।
বিএইচবিএফসি এ নিয়ে গত দুই বছরে তিনবার সুদের হার কমিয়েছে। সুদহার কমালে ব্যবসায় ক্ষতি হয় না, সেটির প্রমাণও দিয়েছে সংস্থাটি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংস্থাটি ১৬২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণও কমছে। এটি লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। এমন সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংস্থাটির কর্মীরা আরও যতœবান হবেন বলেই প্রত্যাশা।
বিএইচবিএফসি’র গ্রাহকবান্ধব কর্মসূচির সুফল পাবে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। এতে ‘সবার জন্য আবাসন’ কর্মসূচি যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনই নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া সরকারের ‘গ্রাম হবে শহর’ শীর্ষক বিশেষ অঙ্গীকারও পূরণ হবে।

সর্বশেষ..