বিএনপির সংখ্যাতত্ত্ব ‘হাস্যকর’: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আসন প্রাপ্তির যে হিসাব বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিয়েছেন, তা ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুলকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৮ সালে বিএনপি বলেছিল, আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। পরে দেখা গেল, তাদেরই ৩০টি আসন পেতে কষ্ট। এখনও বলছে আওয়ামী লীগ কি না ৩০টি আসনও পাবে না। আগে ভাগে তাদের এই সংখ্যা তত্ত্বের হিসাব হাস্যকর।’

গতকাল ঢাকায় যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প উদ্বোধন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘আমরা সংখ্যা তত্ত্বের হিসাবে বিশ্বাসী নই। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। জনগণের রায় যেটাই হোক, সেটা মেনে নেয়ার সৎ সাহস শেখ হাসিনার আছে। কিন্তু যারা নিজেদের আকাশসম জনপ্রিয়তার দিবাস্বপ্ন দেখেন তারা কেন নির্বাচনকে ভয় পান।’

বিএনপির নির্বাচন বর্জন তাদের জন্যই ‘আত্মঘাতী’ হবে বলে দলটিকে হুশিয়ার করে দেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যার নেতত্বে বিএনপি চলছে, তিনি একজন পলাতক আসামি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি করবেন না বলে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। আর ফিরে আসেননি। কাজেই পালানোর অভ্যাসটা তাদেরই।’

বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বললেও স্বতন্ত্র প্রার্থী দিচ্ছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘তলে তলে নিচ্ছেন, ওপরে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করছেন। কেন তাদের প্রকাশ্যে নির্বাচন করতে এত ভয়? নির্বাচনে দিনে-দুপুরে তারা পালিয়ে যায়, এখনও যান। আসলে বিএনপি নেতারা জনগণের জন্য কখনও রাজনীতি করেননি, এখনও করেন না।’

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও তিনটি ধাপে সারাদেশে তিন হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সেজন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা বলেন কাদের।

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন পেলে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আওয়ামী লীগে খতিতে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে (প্রার্থী) সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছি।’

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের যাত্রাবাড়ী-ডেমরা চার লেনের মহাসড়কের কাজ উদ্বোধন করে বলেন, প্রায় ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১১টি আন্ডারপাস, প্রায় ২৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু ও একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

সর্বশেষ..