বাণিজ্য সংবাদ

বিএফআইইউ’র আর্থিক অনুসন্ধান বিষয়ে কর্মশালা

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উদ্যোগে গত বুধবার আর্থিক অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বার অ্যান্ড কমার্স (এমসিসিআই) ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে অংশ নেন অর্থ পাচারসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএফআইইউ’র প্রধান কর্মকর্তা আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ও পরিচালন প্রধান মো. জাকির হোসেন চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।

কর্মশালায় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস, দুর্নীত দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেট (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিএফআইইউ’র ৩৫ কর্মকর্তা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহা. রাজী হাসান বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে অপরাধ ও অপরাধীর ধরন ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। অতীতের নানাবিধ অপরাধের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত আর্থিক অপরাধ বিশ্বে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ অপরাধ শুধু কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। তিনি বলেন, অর্থ পাচার এমন একটি অপরাধ, যা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ-সম্পত্তির উৎস গোপন করে তার অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসসহ নানামাত্রিক ঝুঁকির উদ্ভব ঘটে। এসব অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়বে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বশেষ মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রতিবেদন ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্সের রেটিং আশানুরূপ হলেও ইফেকটিভনেসের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে, অর্থ পাচার বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন রিপোর্টের সুপারিশ তথা বাংলাদেশের অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও বেগবান করার লক্ষ্যে অর্থ পাচারবিষয়ক তদন্ত কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিএফআইইউ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহায়তায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..