দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিএসইসি-আইডিআরএ খুঁজছে বিকল্প পথ

২৭ বিমা কোম্পানির তালিকাভুক্তি

পলাশ শরিফ: জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে ২৭ বিমা কোম্পানি এখনও পুঁজিবাজারের বাইরে। কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এর অন্যথা হলে লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কাও রয়েছে।

এর পরও আইপিও’তে আসতে বেশ কয়েকটি শর্ত নিয়ে জটিলতার কারণে চলমান প্রক্রিয়ায় সিংহভাগ কোম্পানিই নির্ধারিত সময়ে পুঁজিবাজারে আসতে পারবে না। বিমা ও পুঁজিবাজার উভয় খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বিষয়টি আঁচ করেছে। তাই অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির উপায় খোঁজা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমা খাতের বেশকিছু কোম্পানির করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও প্রতিশ্রুতি পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেইসঙ্গে আয়-ব্যয়ে অসংগতি ও তারল্য সংকটের কারণে কিছু কোম্পানি গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ করতে পারছে না। তাই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা গোপন রাখা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর কাছে জবাবদিহি এড়াতে ওই কোম্পানিগুলো আইন মেনে পুঁজিবাজারে আসছে না; এককালীন ও দৈনিক হারে জরিমানা গুনেও পুঁজিবাজারের বাইরে থাকছে। সেইসঙ্গে তালিকাভুক্তি এড়াতে পরিশোধিত মূলধন ও শেয়ার ধারণসহ বেশকিছু ইস্যুতে কৌশলে জটিলতা ‘জিইয়ে রাখা’ হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাপ দিলে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সেই ইস্যুগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে।

এদিকে জরিমানা গুনে বছরের পর বছর পুঁজিবাজারের বাইরে থেকে ব্যবসা করায় হঠাৎ করেই উদ্যোগী হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার নির্দেশনার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২৭টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারের আসার জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ‘জিইয়ে রাখা জটিলতা’র কারণে আইডিআরএ’র নির্দেশনার পরও সিংহভাগ কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাস্তবতা বিবেচনায় বিমা কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান জটিলতা কাটিয়ে আইপিও’র ধাপ পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৭টি কোম্পানির তালিকাভুক্তি সম্ভব নয়, যে কারণে এ নিয়ে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। অল্প কিছু কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেও সিংহভাগ কোম্পানিই অজুহাত দিয়ে কালক্ষেপণের সুযোগ খুঁজছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কোম্পানিগুলো কয়েক বছর ধরেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত আইনি নির্দেশনা ভঙ্গ করছে। এজন্য কোম্পানিগুলোকে বারবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা জরিমানা দিয়ে হলেও পুঁজিবাজারের বাইরে থাকছে। সে কারণেই কোম্পানিগুলোকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে আসতে হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শর্ত পূরণ করেই আসতে হবে। তাই কিছু কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা তালিকাভুক্তির প্রশ্নে আন্তরিক। এসব নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে আলোচনা চলছে। আমি আশা করছি, আইপিও প্রক্রিয়া শুরু করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিংহভাগ কোম্পানি বাজারে আসতে পারবে।’  

আইডিআরএ সূত্র জানিয়েছে, বিমা খাতে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করে শৃঙ্খলা ফেরাতেই ওই কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান জটিলতার কারণে কয়েকটি কোম্পানির নির্ধারিত সময়ে তালিকাভুক্তি নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার পথ খোঁজা হচ্ছে। এজন্য কোম্পানিগুলোকে পৃথকভাবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্তির রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গেও সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির অগ্রগতি ও রূপরেখা নিয়ে আলোচনার পর পুরো চিত্রটি পরিষ্কার হবে। এরপর দুই সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে কীভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও বিষয়গুলো অবহিত করে দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে। অতীতের মতো এবার ‘অজুহাত’ দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আলাপকালে বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘তালিকাভুক্তি ইস্যুতে এবার আইডিআরএ, বিএসইসি ও বিআইএ একসঙ্গে কাজ করছে। সবাই এ বিষয়ে আন্তরিক। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হবে।’

সর্বশেষ..