প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিএসইসি চেয়ারম্যানের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, খায়রুল হোসেন দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন ও শেয়ারবাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন। গতকাল এ ইস্যুতে সরগরম ছিল মতিঝিলের ব্রোকারেজ হাউজগুলো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করার চেয়ে ড. খায়রুল হোসেনের বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মগ্ন ছিলেন। তাদের বেশিরভাগ মনে করেন, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য তিনি দায়ী। কারণ তার সময়ে সবচেয়ে বেশি দুর্বল কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আর এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে তার মাশুল দিতে হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
এ প্রসঙ্গে একটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান দায় এড়াতে পারেন না। শুধু তিনি নয়, এ সময়ে তার জায়গায় যিনি থাকতেন তাকেই এ দায় নিতে হতো।
জানা গেছে, খায়রুল হোসেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোগসাজশে দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক পাবলিক অফার (আইপিও) অনুমোদন করে ও শেয়ারবাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন। এমন অভিযোগে চলতি মাসের প্রথমদিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কমিশনের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির এক সহকারী পরিচালককে।
অভিযোগ রয়েছে, খায়রুল হোসেনের আট বছরের মেয়াদে প্রায় ৮৮টি আইপিও অনুমোদিত হয়। যার প্রায় অর্ধশত নিম্নমানের বলে অভিযোগ ওঠে। তার সময়ে বেশ কয়েকটি নিম্নমানের কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে উচ্চ মুনাফা দেখিয়ে সিকিউরিটিজ রেগুলেটরে আইপিও অনুমোদন করিয়ে নেয়। তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সংস্থার শেয়ারের দর নিচের দিকে যেতে শুরু করে। কিছু কোম্পানির পূর্ববর্তী আয়ের রিপোর্টগুলো জাল ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানতে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে খায়রুল হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। তবে এটুকু বলতে পারি, বাজারে অনেক কথাবার্তা থাকতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান হিসেবে এককভাবে নেওয়া হয় না। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়ে থাকে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ধসের পর বিএসইসি ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সুবাদে ২০১১ সালের ১৫ মে বিএসইসিতে নিয়োগ পান খাইরুল হোসেন। নানা সমলোচনার মধ্যেও টানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন ড. খাইরুল হোসেন।

 

ট্যাগ »

সর্বশেষ..