প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিএসইসি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী: অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শক্তিশালী পুঁজিবাজার উন্নত অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশে পুঁজিবাজারের অবদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে শিল্প অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারের সুদৃঢ় অবস্থান আমাদের একান্ত কাম্য।’

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন ভবন ও দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’ (ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম) উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পুঁজিবাজার হবে উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের এক নির্ভরযোগ্য উৎস।’

জনগণের সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তোলা, সঞ্চিত অর্থের সঠিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারার সক্ষমতা অর্জনে বিনিয়োগ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি হুজুগে মাতে। হুজুগে মেতে সব শেষ করে, তারপর হায় হায় করে।’

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেখানে বিনিয়োগ করবেন, সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন, ভালোভাবে খোঁজখবর নিন। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও আর্থিক বিবরণী জেনে নিন। কিছু না জেনে বিনিয়োগ করলে সব হারাবেন, তারপর সব দোষ দিবেন অর্থমন্ত্রী আর সরকারের, এটা যেন না হয়। ঝুঁকিটা বিনিয়োগকারীদের নিতে হবে। জেনে-বুঝে সঠিক জায়গায় সঠিক বিনিয়োগ করবেন।’

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রয়েছে এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকায় একটি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে ‘ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল’ নামে ৯০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিও-তে ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বস্তরের বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও যৌক্তিক বিনিয়োগের কলাকৌশল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে বিএসইসির দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এতে বিনিয়োগকারী উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি জ্ঞাননির্ভর বিনিয়োগ গোষ্ঠীর উপস্থিতিতে দেশের পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাজারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তুলবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পুঁজিবাজার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা করে থাকে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা তাদের সঞ্চয় সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সুযোগ পান। এর ফলে শিল্প ও কলকারখানা বিকাশের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।’

একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএসইসির আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনি বিধান রাখা হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে উন্নততর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা

হয়েছে। কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের সমমানের করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান,  বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা অনেক কম। অথচ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করতে হলে কোম্পানিগুলোকে সে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। আমাদের অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনা করে কোনো কোম্পানিকে আমরা চাপ সৃষ্টি করিনি। আগামীদিনে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তালিকাভুক্তির জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে চাপ দেওয়া হবে।

এম খায়রুল হোসেন বলেন, সরকারের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ দিতে প্রস্তুত পুঁজিবাজার। সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কারের কারণেই পুঁজিবাজারে এ-সম্ভাবনার দ্বার উম্মুক্ত হয়েছে।