বিএসটিআইকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান বাড়াতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতি রাজধানীর তেজগাঁও বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব বিনির্মাণে মান’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএসটিআই’র মহাপরিচালক ড. নজরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা ও এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে বিএসটিআইকে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিগত দেড় দশকে আঞ্চলিক অফিস সম্প্রসারণ, জনবল বৃদ্ধি ও ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বাড়ানোসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে।

শিল্পমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা সৃষ্ট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বিএসটিআই অধিকহারে আন্তর্জাতিক মানকে জাতীয় মান হিসেবে গ্রহণ করছে। পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজতর হবে। দেশে ও বিদেশে ক্রেতার আস্থা অর্জনের জন্য বিশ্বমানের শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের অবাধ প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে ব্যবহারযোগ্য পণ্য (ফিনিশড প্রোডাক্ট) পর্যন্ত সর্বত্র মানের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিএসটিআই অনেক সুসংগঠিত হয়েছে। জনবল ও কর্মপরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিএসটিআই’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বিএসটিআই’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজšে§র কথা চিন্তা করে ভেজালমুক্ত খাদ্য ও পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।  

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের প্রসারে আমাদের শিল্পকলকারখানায় উৎপাদিত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখতে হবে। কভিডের এ ক্ষতি কাটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা আরও সচল ও বেগবান করতে হবে।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভিলক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও সেবার প্রসার ঘটাতে হবে। মান দিবস পালনের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, বিপণনকারীসহ সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করছি।

দেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বিশ্বমানের টেস্টিং ল্যাব না থাকায় উদ্যোক্তারা রপ্তানি করতে বাধার মুখে পড়ছেন। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিএসটিআই’কে আন্তর্জাতিক মানের টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

সভাপতির বক্তব্যে বিএসটিআই মহাপরিচালক নজরুল আনোয়ার বলেন, মানসম্পন্ন পণ্য এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১০টি আঞ্চলিক ও ৪১টি নতুন জেলা কার্যালয় স্থাপন এবং পণ্য পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানের নতুন নতুন ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যমান ল্যবরেটরিগুলোয় নতুন নতুন পণ্য পরীক্ষণ প্যারামিটার সংযুক্ত করা, মানচিহ্ন নকল ও অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধে অনলাইন কিউআর কোড-সংবলিত লাইসেন্স প্রদান, পণ্যের হালাল সনদ প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তিনি তুলে ধরেন।  

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..